, | |

মূলপাতা জাতীয় নাগরিক পার্টি

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন


সামান্তা শারমিন
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশের সময় :৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৮:৩১ : অপরাহ্ণ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট, ২০২৬ সালের নির্বাচনী কৌশল, গণঅভ্যুত্থানে নারীর অধিকার ও দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রসহ চারটি বিষয়ে দলের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে সামান্তা শারমিন বলেন, কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। আপনারা জানেন, আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে সামান্তা শারমিনকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। সে ক্ষেত্রে এই নেত্রীর পদাবনতি হয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়। এ নিয়ে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন সামান্তা।

তিনি লেখেন, গত ১১ মাস যাবৎ আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি, তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক-বিতর্ক বা আলাপ-আলোচনা করেছি। যেহেতু সংগঠনে নানা চড়াই-উতরাই থাকে, সেখানে দল যদি ভুল পথে যায়, সেই পথ থেকে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করা আমার রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল। সেই কর্তব্য পালন করতে এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলাম। কারণ, দলের গৃহীত নীতিসমূহকে স্বীকৃত ফোরামগুলোতে যুক্তিসংগত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ভিন্ন কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না। আজ প্রায় এক বছরের এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করলাম, কারণ এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব বলে মনে করি না।

 

সামান্তা শারমিন আরও লেখেন, পদত্যাগ করার জন্য আমি হয়তো আরও উপযোগী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারতাম, যখন দলের কোনো একটি সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার পদত্যাগকে মূল্যায়ন করা সহজ হতো। কিন্তু আমি মনে করি, এই অপেক্ষা অর্থহীন। এনসিপি কখনো কখনো নানা ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিতেই পারে (এমনকি জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্ত), কিন্তু তবুও পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে আমি মনে করি না। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনোই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা আনার জন্য সহায়ক হবে না, বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরও লেখেন, এখন সময় এসেছে, যখন দলের সঙ্গে আমার এত দিন যেসব মতপার্থক্য হয়েছে, আলাপ-আলোচনা হয়েছে, সেসব বিষয় দলের সবাই এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের জানানো দরকার।

Rajniti Sangbad


আরও খবর