, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হলেন পিএইচপির মহসিন চৌধুরী


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম প্রকাশের সময় :৪ জুলাই, ২০২৬ ৫:১৩ : অপরাহ্ণ

নানা আইনি জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে জাহাজভাঙা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন পিএইচপি শিপ স্ক্রেপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী।

আজ শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু’র হালদা বিজনেস সেন্টারে সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ১২ বছর পর অনুষ্ঠিত শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের এই নির্বাচনে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেন চট্টগ্রামের স্বনামধন্য জাহাজ ভাঙা শিল্পের ব্যবসায়ীরা।

নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৮৪ জন। এরমধ্যে ভোট দিয়েছেন ৭১ জন। প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ১৮ জন। এর মধ্যে সভাপতিসহ ১১ জন নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে ঋণখেলাপির কারণে সভাপতি প্রার্থী থেকে বাড় পড়েন রাইজিং স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিটাগাং চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি আমজাদ হোসাইন চৌধুরী। ঋণখেলাপির দায়ে আমজাদ চৌধুরীর বড় ভাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন থেকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী আসলাম চৌধুরীও প্রার্থিতা হারিয়েছেন। গত ৩০ জুন তার প্রার্থিতা বাতিল করে আপিল বিভাগ।

নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর পিএইচপি শিপ স্ক্রেপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসিন চৌধুরী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ব্যবসায়ীরা ভোট দিয়েছেন। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।’

তিনি বলেন, শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন হলো জাহাজ ভাঙা শিল্পের ব্যবসায়ীদের বাতিঘর। আশা করছি, আমি এ সংগঠনের সকল ব্যবসায়ীদের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারবো।’

শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খাজা আজমীর স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সেলিম উদ্দিন। সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ফোর স্টার শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুর উদ্দিন ও চিটাগং শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মোকাররম আলী।

এ ছাড়া পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন সাতজন। এরা হলেন-মো. জাহিদুল হক, মো. তসলিম উদ্দিন, এস এম নুরুন নবী, মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ, উবাইদা আসাদী, হোসাইনুল আরেফিন এবং এ কে এম সাইফুল্লাহ সৈয়দ।

এর আগে গত ১৩ জুন শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন ঋণখেলাপির দায়ে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া আমজাদ চৌধুরী। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরই তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরীর হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে মেসেজ পাঠিয়ে তাকে মামলার হুমকি দেন। পরবর্তীতে নির্বাচন বোর্ড ৪ জুলাই পুনরায় ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করে।

গত ৩০ এপ্রিল ঋণখেলাপির অভিযোগে আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। এরপর আমজাদ নির্বাচন আপিল বোর্ডের কাছে আপিল করেন। গত ৬ মে আপিল বোর্ডে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ সাব্যস্ত হওয়ায় শুনানিতে আমজাদের আপিল নামঞ্জুর করে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনী বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গত ১ জুন হাইকোর্টে রিট করেন আমজাদ চৌধুরী। রিটের শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে গত ৩ জুন লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন বোর্ড। গত ৮ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রিটের আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগ। এতে শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ফলে আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়।

এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দেন ১১ জন। তখন আমজাদ চৌধুরীর ‘অযাচিত হস্তক্ষেপের’ কারণে ১৫ সেপ্টেম্বর ‘স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন’ করতে না পারার কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দেয় নির্বাচন বোর্ড। ফলে আর নির্বাচন হয়নি।

এরপর গত বছরের ৩ নভেম্বর সংগঠনের সংঘবিধি লঙ্ঘন করে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের সভাপতির পদ ‘দখল’ করেন আমজাদ চৌধুরী। সংগঠন পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আমজাদ চৌধুরীকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি অপসারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সচিব আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে যে ‘ফর্মুলা’ দিলেন পিএইচপির হিরু

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর