ব্রাজিলের জার্সিতে প্রায় তিন বছর পর মাঠে ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। তবে ব্রাজিলিয়ান নাম্বার টেন মাঠে প্রবেশের আগে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাওয়া এই তরুণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করেছেন জোড়া গোল। ভিনির জাদুতে ৩-০ গোলে জিতেছে সেলেসাওরা। গ্রুপ ‘সি’ সেরা দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে।
ব্রাজিলের ‘সি’ গ্রুপের অপরসঙ্গী মরক্কো ৪-২ গোলে হাইতির বিপক্ষে জয় পেয়েছে। তিন ম্যাচ থেকে ব্রাজিলের সমান ৭ পয়েন্ট তুলেছে আফ্রিকার দলটিও। তবে ব্রাজিলের চেয়ে ৩ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা দলটি।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে লিড নেয় ব্রাজিল। ম্যাচের ৭ মিনিটে জালে বল পাঠিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রাফিনিয়ার ইনজুরিতে শুরুতে একাদশে জায়গা পাওয়া রায়ান তাকে গোলে সহায়তা দেন। বক্সের মুখে স্কটিশ ডিফেন্ডারের নড়বড়ে নিয়ন্ত্রণের সুযোগে পা থেকে বল কেড়ে ভিনিকে দিলে সহজে জালে পাঠান তিনি।
২২ মিনিটে জ্যাক হেন্ড্রিকে কাটিয়ে পরিষ্কার শট নেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়ুস। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর সেই গোল বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, বল পাওয়ার আগে ভিনিসিয়ুস হেন্ড্রির পায়ে লাথি মেরেছিলেন।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের মাপা ক্রসে চমৎকার হেডে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ভিনি।
দলের তৃতীয় গোলটিকেও দারুণ এক সহায়তা দিয়েছেন ব্রাজিলের মাঝমাঠের প্রাণভ্রোমরা গিমারেজ। তিনি ম্যাচের ৬০ মিনিটে স্কটল্যান্ডের বক্সের ঠিক বাহির থেকে ছোট্ট নিঁখুত পাসে ম্যাথিউস কুনিয়াকে ফাঁকায় বল পাঠান। বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ম্যানইউ স্ট্রাইকার। টুর্নামেন্টে ভিনির চার গোলের পাশাপাশি তিন গোল করেছেন এই নাম্বার নাইন।
এরপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যার জন্য বিশ্ব চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ছিলেন ভক্তরা। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর চোটের দীর্ঘ লড়াই পেরিয়ে প্রায় আড়াই বছর পর প্রথমবার ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে পা রাখলেন এই মহাতারকা। যদিও তেমন কিছু করার সুযোগ হয়নি।
ম্যাচ শেষ হতেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে ব্রাজিল। ‘সি’ ৭ পয়েন্ট পেয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ বত্রিশে পা রেখেছে সেলেসাওরা।
আরও পড়ুন: স্বরূপে ফিরলেন রোনালদো
