, | |

মূলপাতা খেলা

মেসির অবিশ্বাস্য জোড়া গোল, অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা


মেসিকে আটকানোর চেষ্টা অস্ট্রিয়ার।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২৩ জুন, ২০২৬ ১:২১ : পূর্বাহ্ণ

শুরুতে মেসির পেনাল্টি মিসের কারণে কিছুটা হতাশা ছড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা শিবিরে। কিন্তু পেনাল্টি মিস করার পর সেই লিওনেল মেসি জ্বলে উঠেন; করলেন দুটি অবিশ্বাস্য গোল। তার দুর্দান্ত দুটি গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠে গেলো আর্জেন্টিনা।

আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ফুটবল বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা আর অস্ট্রিয়া।

৯ম মিনিটে মেসির মত ফুটবলারের পা থেকে স্পট কিক পোস্টের বাইরে চলে যাবে, তা ছিল অবিশ্বাস্য। পুরো গ্যালারি তখন উঠে দাঁড়িয়েছিল মেসির বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড উদযাপন করার জন্য। কিন্তু তখন তার পেনাল্টি মিস হতাশ করলো সবাইকে।

এরপর তিনি যা দেখালেন, তা রীতিমত অবিশ্বাস্য। পুরো আর্জেন্টিনা দল যেন সবগুলো বল তৈরি করে এনে দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল মেসির পায়ে। প্রথমার্ধে অন্তত দুটি নিশ্চিত গোলের শট নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার স্লাগার এবং তাদের ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় গোল থেকে বার বার বঞ্চিত থাকতে হচ্ছিল মেসিকে।

অবশেষে এলো সেই কাঙ্খিত মুহূর্ত। মেদিনা কাছ থেকে বল পেয়ে বুলেটের গতিতে যে শটটা নিলেন মেসি, চোখের পলকে সেটা গিয়ে ঠাঁই নিলো অস্ট্রিয়ার জালে। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ মুহূর্তে (৯০+৫ মিনিটে) যে গোলটা দিলেন তিনি, সেটাকে চোখ ধাঁধানো বললেও ভুল হতে পারে। দীর্ঘদিন চোখে লেগে থাকার মত একটি গোল ছিল সেটি। পেনাল্টিটি মিস না করলে টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক হয়ে যেতো মেসির।

ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া। যাদের বিপক্ষে আলজেরিয়ার মত ম্যাচটা এতো সহজ হবে না, এটা আগেই জানা ছিল। মাঠেও এর প্রমাণ মিলেছে। আর্জেন্টিনার চোখে চোখ রেখে সমানভাবে লড়াই করেছে অস্ট্রিয়ানরা।

কিন্তু যে দলে মেসির মত ফুটবলার আছেন, সেই দলটিকে আটকে রাখা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই কঠিন। পেনাল্টি মত সহজ সুযোগ মিস করেও ঠিকই আর্জেন্টিনার জন্য অস্ট্রিয়ার গোলমুখের তালা খুলে দিলেন মেসি নিজেই।

ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন মেসি। যে গোল নিয়ে ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রিয়া। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগে আরেকবার বল জড়ালেন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্জেন্টিনা। চতুর্থ মিনিটে লওতারো মার্টিনেজকে বক্সের ভেতর ফাউল করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ভিএআর পরীক্ষা শুরু হয়। জাভিয়ের স্লাগার, স্টেফান পচস- এ দ ‘জনই একই সময়ে চ্যালেঞ্জে গিয়েছিলেন।

রেফারি ভিএআর মনিটরে দেখে আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি দেন। ৯ম মিনিটে স্পট কিক নিতে আসেন মেসি। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তার শট পোস্টের ডান পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির সবচেয়ে হতাশাজনক পেনাল্টি মিসগুলোর একটি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তিনটি পেনাল্টি মিস করেন তিনি। যা সর্বোচ্চ।

পেনাল্টি মিসের পরও আর্জেন্টিনা আক্রমণ চালিয়ে যায়। ১৯ মিনিটে মেসি বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার তা রুখে দেন। অন্যদিকে অস্ট্রিয়াও পাল্টা আক্রমণ করে কয়েকবার বিপদ তৈরি করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।

অবশেষে ৩৮ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। থিয়াগো আলমাদা বাম দিকে বল বাড়ান ফাকুন্দো মেদিনার কাছে। মেদিনা নিচু ক্রস ফিরিয়ে দেন বক্সের প্রান্তে ছুটে আসা মেসির দিকে। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক প্রথম ছোঁয়াতেই দারুণ বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। অসহায় শ্লাগার শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারেননি।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা ১৭-তে নিয়ে যান মেসি। ফলে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে (১৬ গোল) পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে বসেন তিনি।

গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় অস্ট্রিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। আর্জেন্টিনা চেষ্টা করে ব্যবধান বাড়ানোর আর অস্ট্রিয়ার লক্ষ্য ম্যাচে সমতা ফেরানো। সমানতালে চলে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ। তবে কোনো দলই গোলের দেখা পাচ্ছিল না। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল ১-০ ব্যবধানেই বোধহয় শেষ হবে ম্যাচ।

মেসিকে আটকাতে অস্ট্রিয়া দেয়াল তৈরি করে। মেসিও সেই দেয়াল টপকে গোল মুখে বারবার এগিয়ে যায়। অবশেষে শেষ বাঁশি বাজার আগে দেখেন সফলতার মুখ।

মেসির অবিশ্বাস্য জোড়া গোল, অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

৯৫ মিনিটে বক্সের ভেতরে জটলা থেকে পাওয়া বলে শট নিয়েছিলেন। গোলরক্ষক ঢেকিয়ে দেন। আবার বল তার নাগালে। এবার একটু ডানপাশে চেপেগিয়ে আবার শট মেসির। এবার আর কেউ বাধা হতে পারেননি। অস্ট্রিয়ার জালে শেষ পেরেকটি ঠুকে মেসি নিশ্চিত করেন দলের জয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব। এরপর শেষ মুহূর্তে আরেকটি স্পটকিকে মেসি প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন। তার শট নেওয়ার পরপরই রেফারি বাঁশি বাজিয়ে খেলার সমাপণী টানেন।

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর