, | |

মূলপাতা জাতীয়

মুক্তিযোদ্ধা থেকে রাষ্ট্রনায়ক: জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৩০ মে, ২০২৬ ১০:৪০ : পূর্বাহ্ণ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির নতুন ধারা সৃষ্টির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের নায়ক জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিটি পর্যায়ে রেখেছেন স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বের ছাপ। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে তিনি নিহত হন।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীতে জন্ম নেওয়া জিয়াউর রহমান পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন লাভ করে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিদ্রোহ করে ঝাপিয়ে পড়েন সশস্ত্র সংগ্রামে। সম্মুখ সমরে অংশ নিয়ে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ১১ নম্বর সেক্টর ক মান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ৭ জুলাই তার নামের আদ্যক্ষর অনুসারে দেশের প্রথম নিয়মিত ব্রিগেড ‘জেড ফোর্স’ গঠিত হলে তিনি এর ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তি সংগ্রামের উত্তাল সময়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন তৎকালীন মেজর জিয়া। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পান ‘বীর উত্তম’ খেতাব।

মুক্তিযুদ্ধের পর সেনাবাহিনীতে ফিরে গেলেও ৭৫ এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ধীরে ধীরে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রথমে প্রধান আইন প্রশাসক ও পরে রাষ্ট্রপতি হন জিয়াউর রহমান। এরপর ১৯৭৮ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। শহীদ জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান এবং নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। এজন্য তাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক বলা হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠারও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে খালকাটা কর্মসূচির মাধ্যমে। তিনি বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রফতানির সূচনা করেন। তার সময়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবা জার সম্প্রসারণ নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করে। পররাষ্ট্রনীতিতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ এর ধারণাকে সামনে এনে মুসলিম বিশ্ব ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কোরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর