বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এছাড়া জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক।
আজ মঙ্গলবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার ঢাকায় আসার কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। অপরদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকায় আসার কথা জানিয়েছে ঢাকার হাইকমিশন অফিস।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
গত ২৩ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ে। পরে কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়ায় তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। ১ ডিসেম্বর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, করেছেন কারাভোগ। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাকে। ফলে ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরদিন ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর একাধিকবার শারীরিক নানা জটিলতায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়ক: রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ৪১ বছর
