ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা শাহবাগে অবস্থান নেন। এতে ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধ করার পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার; দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা; এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ্য হাদি লড়াই করে; লীগ ধর, জেলে ভরসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অবরোধ চলাকালীন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ঘোষণা দেন, সরকারের দায়িত্বরতরা শাহবাগে না আসা পর্যন্ত এ অবরোধ চলবে। এছাড়া হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত শাহবাগ না ছাড়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক ও শিক্ষক। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। হাদি জুলাই শহীদদের অধিকার রক্ষা ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সক্রিয় রাজনীতির জন্য আলোচনায় আসেন।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান এই বিপ্লবী।বাংলাদেশ ভ্রমণ
এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) তদন্তাধীন রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও মুল অভিযুক্তকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আরও পড়ুন: হাদিকে নিয়ে পোস্ট করায় আসিফ মাহমুদের পেজ রিমুভ
