ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সংবর্ধনা উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
বিমানবন্দরের সিআইপি গেট থেকে বুলেটপ্রুফ বাসে করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন তারেক রহমান। বাসটির গায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বড় আকারের প্রতিকৃতি রয়েছে।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিমানবন্দরগামী ইনকামিং ও আউটগোয়িং সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়েছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। স্লোগানে স্লোগানে মুখর পুরো বিমানবন্দর সড়ক।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা তার মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এর আগে আজ বেলা ১১ টা ৩৯ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
এর আগে, লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে আজ সকাল ১০ টার দিকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে ফ্লাইটটি। সেখান থেকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে ফ্লাইটটি।
তারেক রহমানের সঙ্গে এসেছেন তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
দেশের আকাশে ঢোকার পরপরই তারেক রহমান হাস্যোজ্জল ছবি দিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে লিখেন ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩শ ১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!’
পোস্টে নিজের ছবি ছাড়াও স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ আরেকটি ছবিও দিয়েছেন তিনি। সিলেটে অবতরণের পর তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানও পৃথক ছবি পোস্ট করেছেন। তিনি ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন ‘অবশেষে সিলেটে, বাংলাদেশের মাটিতে!’
এদিকে রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে তারেক রহমানকে একনজরে দেখতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছে। কুড়িল থেকে শুরু করে মঞ্চ এলাকা পর্যন্ত যেন তিল ধারণের জায়গা নেই। তিনশ ফিট সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
পুরো পূর্বাচল এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসংখ্য সদস্য।
উল্লেখ্য, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ই মার্চ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান। এরপর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদেরকে সাথে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তারেক রহমান।
২০১২ সালে তিনি ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। এরপর থেকে তারেক রহমান দীর্ঘ সময় সেখানেই অবস্থান করছেন। এই সময়কালে দেশের বাইরে থেকেও তিনি বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওয়ান-ইলেভেন সরকার এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শ’খানেক মামলা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫টি মামলায় তার সাজাও হয়েছিল।
আরও পড়ুন: জনসমুদ্রে পরিণত ৩০০ ফিট সড়ক
