জনগণের কাছে নির্বাচনের খরচ চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার অ্যাকাউন্টে বানের পানির মতো ঢুকছে টাকা! মাত্র সাত ঘণ্টায় ১২ লাখ টাকারও বেশি সহযোগিতা পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব।
আজ মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে ডা. তাসনিম জারা লিখেছেন, মাত্র ৭ ঘণ্টায় আপনারা ১২ লাখ টাকারও বেশি পাঠিয়েছেন। এতটা অভূতপূর্বভাবে আপনারা পাশে দাঁড়াবেন, তা সত্যিই আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪৬,৯৩,৫৮০ টাকা। আর ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলেই আমরা ফান্ডরেইজিং বন্ধ করে দেব। আমরা অবগত আছি যে রাত ২টার পর থেকে নির্ধারিত লিমিট অতিক্রম করার কারণে বিকাশে আর টাকা পাঠানো যাচ্ছে না। আপাতত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডোনেশন গ্রহণ করা যাচ্ছে।
এর আগে, রাত দেড়টার দিকে আরেক পোস্টে এই এনসিপি নেত্রী লিখেন, মাত্র চার ঘণ্টায় ৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা! চার ঘণ্টা আগে আমি আপনাদের কাছে হাত বাড়িয়েছিলাম। বলেছিলাম আমরা যদি কালো টাকার ঊর্ধ্বে উঠে একটি নতুন ধারার রাজনীতি করতে চাই, তবে সেই শক্তির উৎস হতে হবে আপনাদের মতো সাধারণ মানুষকে। এরপর মাত্র চার ঘণ্টায় আপনারা ৫ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। কিন্তু টাকার অঙ্কের চেয়েও বড় যে বিষয়টা আমাকে নাড়া দিয়েছে, সেটা হলো এই টাকার ধরন। অধিকাংশ অনুদান এসেছে খুব ছোট অঙ্কে: ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা। অনেকে সঙ্গে ছোট ছোট বার্তা দিয়েছেন। একজন লিখেছেন, “আমি স্টুডেন্ট। সামর্থ্য অনুযায়ী দিলাম।”
তাসনিম জারা আরও লিখেন, আমাদের লক্ষ্য মোট ৪৬,৯৩,৫৮০ টাকা। এরই মধ্যে আমরা ৫.২৬ লক্ষ টাকার মাইলফলক স্পর্শ করেছি। লক্ষ্য পূরণ হওয়া মাত্রই আমরা আমাদের ফান্ডরেইজিং বন্ধ করে দেব। আপনাদের আগেই বলেছি যে আমরা স্বচ্ছ ভাবে টাকা উত্তোলন ও খরচ করবো। তাই আপনাদের সাথে স্ক্রিনশট শেয়ার করছি। এই দুইটি অ্যাকাউন্ট শুন্য থেকে শুরু হয়েছে। আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আপনাদেরকে সম্পূর্ণ হিসাব দেয়া হবে। আপনাদের এই অভূতপূর্ব সাড়ায় আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সাহায্য পাঠানোর উপায়।
এর আগে, গতকাল সোমবার রাত সোয়া নয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও পোস্টে জনগণের কাছে নির্বাচনের খরচ চেয়ে স্ট্যাটাস দেন তাসনিম জারা। সেখানে নিজের বিকাশ পার্সোনাল নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে সেটা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করেছেন তিনি।
পোস্টে তাসনিম জারা লিখেন, নির্বাচনে একজন প্রার্থী আইনগতভাবে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ বা ভোটার প্রতি ১০ টাকা খরচ করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে শোনা যায় একেকজন একজন প্রার্থী ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচ করেন। অথচ নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে বলেন মাত্র পঁচিশ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। ফলে প্রায় সকলের সংসদে যাওয়ার যাত্রাটা শুরু হয় আইন ভাঙা ও মিথ্যা বলার মাধ্যমে।
ঢাকা-৯ আসনের এই সংসদ সদস্য প্রার্থী আরও লিখেন, আমি এ অসততা ও মিথ্যার রাজনীতি করবো না। আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে, আইনে অনুমোদিত টাকার বাইরে আমি এক টাকাও খরচ করবো না। অনেকে বলেছেন, এত অল্প বাজেটে নির্বাচন করা অসম্ভব। আমি তাদের বলেছি, নতুন বাংলাদেশ গড়তে অন্য উপায় নেই।
তাসনিম জারা লিখেন, নির্বাচনের খরচ যখন ১০ কোটি বা ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় তখন সেই টাকা তোলার জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর চাঁদাবাজি আর টেন্ডারবাজি করাটা তাদের জন্য ‘বাধ্যতামূলক’ হয়ে দাঁড়ায়। এভাবেই রাজনীতিটা সাধারণ মানুষের হাত থেকে ছিনতাই হয়ে মুষ্টিমেয় কিছু সিন্ডিকেটের হাতে চলে যায়।
ঢাকা-৯ আসনের এই সংসদ সদস্য প্রার্থী আরও লিখেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এ নির্বাচনে আমি মোট ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা ব্যয় করতে পারবো। আমি এ টাকাটা আপনাদের কাছ থেকে চাই।
তাসনিম জারা লিখেন, আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ নম্বর দিচ্ছি। এগুলো একদম নতুন অ্যাকাউন্ট। কত টাকা আসছে আর কত খরচ হচ্ছে, প্রতিটি টাকার হিসাব আমি স্বচ্ছভাবে আপনাদের সামনে প্রকাশ করবো, প্রমাণসহ।
আরও পড়ুন: যাত্রা শুরু করলো ভোটের গাড়ি ‘সুপার ক্যারাভান’
