, | |

মূলপাতা জাতীয়

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন


ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে সংসদ ভবন এলাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২:৩৯ : অপরাহ্ণ

আততায়ীর বুলেটে বিদ্ধ হয়ে টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা যাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে।

আজ শনিবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

হাদির জানাজা ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ মানুষ দলে দলে সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। ফার্মগেট, আসাদ গেট হয়ে দলে দলে মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ঢুকেন। কেউ হাতে, কেউ মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে জানাজায় অংশ নেন। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা নানা স্লোগান দেন। ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন

দুপুর ১২টা বাজার আগেই পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জানাজা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।

জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন

জানাজা শেষে হাদির মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হচ্ছে। এরপর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

ওসমান হাদির জানাজা উপলক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের প্রবেশপথগুলোতে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষকে কয়েক স্তরে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হয়। সেখানে টহলে ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার মোতায়েন করা হয়।

এর আগে সকালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ওসমান হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে তার মরদেহ আবারও নেওয়া হয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। সেখানে গোসল শেষে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলসহ মরদেহ নিয়ে নিয়ে আসা হয় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।

উল্লেখ্য, আততায়ীর বুলেটে বিদ্ধ হয়ে টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি। গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথ, ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন ওসমান হাদি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অভ্যুত্থানের ইতিহাস ধরে রাখতে তিনি গড়ে তোলেন ইনকিলাব মঞ্চ। রাজনৈতিক এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে হাদি দেশের মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তার কর্মকাণ্ড দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ওসমান হাদি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা শহরের খাসমহল এলাকার মৃত মাওলানা সৈয়দ আব্দুল হাদির ছোট ছেলে। ঝালকাঠির এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে তিনি আলিম পাশ করেছিলেন। এরপর তিনি ঢাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

আরও পড়ুন: এক সাহসী কণ্ঠের প্রস্থান

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর