রাজধানীর বাড্ডায় ব্যারিকেড দিয়ে জুলাই ঐক্যের ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি আটকে দিয়েছে পুলিশ। ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া ও ভারতীয় প্রক্সি রাজনৈতিক দল, মিডিয়া লীগ ও সরকারি কর্মকর্তাদের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি আহ্বান করা হয়।
আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর রামপুরা সেতু এলাকা থেকে এ লং মার্চ শুরু হয়। বিকেল ৪ টায় বাড্ডার হোসেন মার্কেটের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের লংমার্চ থামিয়ে দেয় পুলিশ। পরে সেখানে এ কর্মসূচি সমাবেশে রূপ নেয়।
এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন দেশপ্রেমিক বাংলাদেশপন্থি সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের একটি অংশ, ডাকসু ও জাকসুর একাধিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও স্কুলের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সমাবেশে জুলাই ঐক্যর অন্যতম সংগঠক সাদিক আরমান বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আমাদের ভোটাধিকার হত্যা করা ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। ভারত নিজেদেরকে আমাদের প্রভু মনে করে। আমাদেরকে মনে করে, আমরা তাদের গোলাম। ভারতকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, আমার ন্যায্যতার সম্পর্ক চাই, গোলামির সম্পর্ক চাই না। আমরা সমতা ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই।
তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পরদিন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ওসমান হাদিকে দিন-দুপুরে গুলি করা হয়েছে। হাদিকে গুলি করা হয়েছে ঢাকায়, খুনিকে পাওয়া যায় ভারতে। এখান থেকে বোঝা যায়, হাদিকে গুলি করার জন্য কারা দায়ী।
বিক্ষোভকারীদের সবার হাতে ফেস্টুন রয়েছে। তাতে লেখা ‘Ban indian proxi media’। এ সময় তারা ভারতের আগ্রসনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তারা স্লোগান দেন-‘দিল্লী না ঢাকা’, ‘ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আমার ভাই হাসপাতালে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘কথায় কথায় বাংলা ছাড়-বাংলা কি তোর বাপ দাদার?’
মিছিলের সামনে রয়েছে নারী কর্মীরা। এছাড়াও মিছিলকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য “জুলাই ঐক্য” লেখা জ্যাকেট পরিহিত এক দল নেভি ব্লু যুবকদের দেখা গেছে।
এদিকে চলমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আজ দুপুর ২টা থেকে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে বাংলাদেশে ভারতের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে বিষয়টি জানিয়েছে দিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আজ দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিবেশের অবনতিতে ভারতের তীব্র উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: এবার ভারতে বাংলাদেশি হাইকমিশনারকে তলব
