বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৮ রমজান, ১৪৪৭

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

চিটাগাং চেম্বার নির্বাচন

রিট খারিজ, চিটাগাং চেম্বার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে টাউন-ট্রেড গ্রুপ



রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময় : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:৫৪ অপরাহ্ণ

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচনে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশ বাতিল চেয়ে করা রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এর ফলে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইলো না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের বেঞ্চ এই রিট খারিজ করে দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটের শুনানিতে চিটাগাং চেম্বারের টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের পক্ষে অংশ নেওয়া আইনজীবী ফারজানা খান রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে সদস্যপদ নবায়ন করেছে। ফলে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনের অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে যে নির্দেশ দিয়েছে তা বলবৎ থাকবে।’

রিটের শুনানিতে চিটাগাং চেম্বারের টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের পক্ষে অংশ নেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। আর রিটকারীর পক্ষে অংশ নেন ব্যারিস্টার নিহাদ কবির।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চিটাগাং চেম্বারের বিতর্কিত টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে এই রিট দায়ের করা হয়েছিলো। চিটাগাং চেম্বারের মোহাম্মদ বেলাল নামের একজন অর্ডিনারি মেম্বার গত ১৯ অক্টোবর এই রিট দায়ের করেছিলেন। গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্টে এই রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ স্থগিত করে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ ছাড়া নির্বাচন করার আদেশ দেয়। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই রিটের বিরুদ্ধে আপিল করে। গত ৩০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেয়। গত ২০ ও ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে এই রিটের দুই দফা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে ১১ ডিসেম্বর রায়ের দিন ধার্য করে হাইকোর্ট।

এদিকে রিট খারিজ হওয়ার পর চিটাগাং চেম্বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’ প্যানেলের প্রার্থীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। রিট খারিজের খবর শুনে তারা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।

চিটাগাং চেম্বার নির্বাচনে ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’ নামের একটি প্যানেলের উপদেষ্টা আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী। এই প্যানেলের লিডার হলেন চট্টগ্রামের খ্যাতনামা শিল্পপ্রতিষ্ঠান সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিরুল হক। অপরদিকে ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ নামের অপর একটি প্যানেলের লিডার হলেন এস এম নুরুল হক।

 

হাইকোর্টে রিটকারী চিটাগাং চেম্বারের অর্ডিনারি মেম্বার বেলাল নির্বাচনে প্রার্থী হননি। তবে তার ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব নির্বাচনে ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ প্যানেল থেকে পরিচালক প্রার্থী হয়েছেন। সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক গত ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে রিটের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের উপদেষ্টা আমীর হুমায়ুন চৌধুরীও সেদিন হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন। এই দুই ব্যবসায়ীর মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্বের কারণে আইনি মারপ্যাঁচে আটকে যায় চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন।

রিট খারিজ হওয়ার পর চিটাগাং চেম্বারের সদস্যদের অনেকে বলছেন, হাইকোর্টে আমীর হুমায়ুনের কাছে হেরে গেছেন নুরুল হক। সামনে চেম্বারের নির্বাচনেও নুরুল হক আমীর হুমায়ুনের কাছে ধরাশায়ী হবেন বলে মনে করছেন তারা।

দীর্ঘ ১০ বছর পর গত ১ নভেম্বর চিটাগাং চেম্বারের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটের দুই দিন আগে হাইকোর্টে রিট দায়ের করার ফলে নির্বাচন আটকে যায়। এখন রিট খারিজের ফলে নতুন করে ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করবে চেম্বারের নির্বাচন কমিশন।

চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচনে ২৪টি পরিচালক পদে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে অর্ডিনারি থেকে ১২ জন, অ্যাসোসিয়েট থেকে ৬ জন, টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৩ জন এবং ট্রেড গ্রুপ ক্যাটাগরি থেকে ৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়। তবে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে ছয়জন পরিচালক প্রার্থী হন। তাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকে না। তারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

নির্বাচনে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ থেকে ছয়জন পরিচালক প্রার্থী হয়েছে আমীর হুমায়ুনের ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেল থেকে। এতে ভোটের আগে ২৪টি পরিচালক পদের মধ্যে ৬টি বাগিয়ে নিয়েছে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। এখন নির্বাচনে ৭টি পদ পেলে চেম্বারের নেতৃত্বে আসবে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। কিন্তু নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদকে চেম্বারের নেতৃত্বে আসতে হলে ১৮টি পদের মধ্যে ১৩টিতে বিজয়ী হতে হবে। যা অনেকটা দুঃসাধ্য।

আরও পড়ুন: চিটাগাং চেম্বার নির্বাচন নিয়ে দুই ব্যবসায়ী নেতার ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর