রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন আশা প্রকাশ করেছেন ডা. জাহিদ। একইসঙ্গে তিনি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী গত ২৭ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। সেখানে চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী গত ২৭ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। সেখানে চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ চিকিৎসাব্যবস্থা তদারক করছেন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।’
কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সবার দোয়া ও আশীর্বাদে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করছি। আপনারা কোনো গুজবে কান দেবেন না। দেশবাসীর দোয়ায় তিনি এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমি তার স্বাস্থ্য বিষয়ে ব্রিফ করবো। এর বাইরে অন্য কারও ব্রিফিংয়ে কান না দেওয়ার জন্য দল আপনাদের অনুরোধ করছে। এটা মানলে গুজব ছড়ানোর কোনো সুযোগ থাকে না।’
বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তাকে দেখছেন। আজকেও দেখার জন্য যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ আসবেন এবং দেখবেন। দেখার পর যদি বিদেশে নেওয়ার মতো হয়, যদি প্রয়োজন পড়ে, তখনই নিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের সব প্রস্তুতি আছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ এ মুহূর্তে আমাদের নেই।’
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, করেছেন কারাভোগ। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাকে। ফলে ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরদিন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।
এরপর একাধিকবার শারীরিক নানা জটিলতায় খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ায় তার অবস্থা সংকটময়। দুই দিন আগে তাকে হাসপাতালের কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের কাজে সন্তুষ্ট ৬৯ শতাংশ মানুষ
