দেশে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম পড়বে ১ হাজার ২৫৩ টাকা। যা আগে ছিল ১ হাজার ২১৫ টাকা।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপি গ্যাসের নতুন এ দাম ঘোষণা করে। আজ সন্ধ্যা থেকেই নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হবে।
নতুন দর অনুযায়ী, ৩৩ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম পড়বে ৩ হাজার ৪৪৫ টাকা আর ৩৫ কেজির দাম পড়বে ৩ হাজার ৬৫৫ টাকা।
এর আগে গত নভেম্বর মাসে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২৬ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি শতাধিক পণ্যে শুল্ক, কর ও ভ্যাট বাড়িয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশে দেখা যায়, তফসিলভুক্ত পণ্য থেকে এলপি গ্যাসকে বাদ দেওয়া হয়। আইন অনুযায়ী, তফসিল থেকে এ পণ্য বাদ দেওয়ায় এতে স্বাভাবিক নিয়মে অর্থাৎ ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য হয়ে পড়ে। তফসিলভুক্ত থাকা অবস্থায় এলপি গ্যাসের উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল।
গত ১৩ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এলপিজির উৎপাদন পর্যায়ে আড়াই শতাংশ ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ করে বিশেষ আদেশ জারি করে। সে হিসাবে এলপিজির ভ্যাট বেড়েছে আড়াই শতাংশ।
প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপি গ্যাসের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
এলপি গ্যাস তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ। প্রতি মাসে এ দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরামকো। সিপি নামে তা পরিচিত। একে ভিত্তিমূল্য ধরে প্রতি মাসে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে সরকারি এ সংস্থাটি। এরপর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করছে বিইআরসি। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ দর ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের কাজে সন্তুষ্ট ৬৯ শতাংশ মানুষ
