, | |

মূলপাতা বিএনপি

বিএনপিতে যোগ দিলেন শহীদ মুগ্ধের ভাই স্নিগ্ধ


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছ থেকে দলের সদস্যপদ নিচ্ছেন মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:০৮ : অপরাহ্ণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের উপপ্রধান জাতীয় কমিশনার হিসেবে কাজ করছেন।

আজ মঙ্গলবার রাত ৯টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে দলের চাঁদা পরিশোধের মাধ্যমে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদ নেন স্নিগ্ধ। এ সময় লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধের পিতা মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কে এই শহীদ মীর মুগ্ধ
শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। তিনি একজন মুক্তপেশাজীবী বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও কাজ করতেন। আন্দোলনের সময় খাবার, পানি এবং বিস্কুট বিতরণ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। মুগ্ধর মৃত্যু কোটা সংস্কার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

‘পানি লাগবে পানি’ ছিলো মুগ্ধের মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে ধারণকৃত একটি ভাইরাল ভিডিওর বাক্য, যা আন্দোলনকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে মীর মুগ্ধকে একটি ভিডিওতে পানির কেস হাতে নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি বিতরণ করতে দেখা যায়, যেখানে তিনি একাধিকবার বলেন-‘পানি লাগবে কারো, পানি, পানি?’

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আহত বা ক্লান্ত শিক্ষার্থীদের পাশে গিয়ে বারবার পানি দিতে এগিয়ে যান এবং ওই দিন সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মুগ্ধ।

মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, মা শাহানা চৌধুরী। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রামরাইল। তিন ভাইয়ের মধ্যে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও মুগ্ধ ছিলেন যমজ।

মুগ্ধ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে এমবিএ করছিলেন। মৃত্যুর সময় তার গলায় বিইউপি আইডি কার্ডটি রক্তমাখা অবস্থায় ছিল।

তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ফাইভারে এক হাজারের বেশি কাজ সম্পন্ন করেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি তিনি একজন ভ্রমণপিপাসু, ফুটবলার, এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্য ছিলেন।

ফাইভার ৩১ জুলাই ২০২৪ তারিখে এক ভেরিফাইড অফিশিয়াল পোস্টে জানায়, মুগ্ধ ছিলেন একজন প্রতিভাবান মার্কেটার। বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবস্থাপনায় তার ছিল অসাধারণ দক্ষতা।

আরও পড়ুন: ২৩৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা, দেখে নিন তালিকা

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর