, | |

মূলপাতা জাতীয়

‘ওডিবি-এম-১৭০১’ গ্রুপে আ.লীগের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র


প্রকাশের সময় :৮ আগস্ট, ২০২৫ ৬:০৬ : অপরাহ্ণ

ফেসবুকে ‘ওডিবি-এম-১৭০১ (অপারেশন ঢাকা ব্লকেড)’ নামে একটি গোপন গ্রুপ খুলে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে মেজর সাদেকুল হক সাদেকের স্ত্রী সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিনের বিরুদ্ধে। তিনি গ্রুপটির অন্যতম অ্যাডমিন।

মূলত এ গ্রুপের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ডাটা এন্ট্রি, বিভিন্ন গোপন কোড তৈরির কাজ করতেন সুমাইয়া। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের পাঠানো ডাটা গুগল শিটে এন্ট্রি দেওয়াসহ অনলাইন সিগন্যাল অ্যাপ, হোয়াটসঅ্যাপ ও গুগলের মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত করার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

ভাসমান টোকাই সংগ্রহ ও তাদের মাধ্যমে নানা অপকর্মের পরিকল্পনাও হয় ওই গ্রুপে। রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টার ছাড়াও বিভিন্ন রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক ফ্ল্যাটে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন সুমাইয়া ও তার স্বামী। এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত আরও বেশকিছু নাম উঠে এসেছে ডিবি পুলিশের অনুসন্ধানে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মামলায় সুমাইয়াকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, সুমাইয়া ইউনিলিভার বাংলাদেশে টেরিটরি ম্যানেজার হিসাবে টঙ্গীর গাজীপুর শাখায় কর্মরত।

‘ওডিবি-এম-১৭০১’ গ্রুপে আ.লীগের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র
সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিন

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সুমাইয়া ও তার স্বামী মেজর সাদেকুল হক পূর্বাচলে সি-সেল নামে রিসোর্টে, কাঁটাবনে রেস্টুরেন্টে এবং মিরপুর ডিওএইচএসে একাধিকবার রাষ্ট্রবিরোধী গোপন বৈঠকের আয়োজন করে। এছাড়া উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে প্রিয়াংকা সিটির দুই নম্বর গেটসংলগ্ন সুমাইয়ার একটি ফ্ল্যাটে একাধিকবার গোপন বৈঠক করেছেন।

এসব বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল-কীভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও সমর্থকদের উৎসাহিত করা যায় এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা যায়। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বৈঠকগুলোতে বিস্তর আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যেও কয়েকবার একত্রিত হয়েছিলেন তারা।

গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে সুমাইয়া জাফরিনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

গত ৮ জুলাই রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন একটি কনভেনশন সেন্টারে আওয়ামী লীগের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী মিলে ৩০০-৪০০ জন লোককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের দুই দিন আগেই একটি টোকেন সরবরাহ করা হয়। তাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন মেজর সাদেক।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেজর সাদেকুল হককে গত ১৭ জুলাই রাজধানীর উত্তরা এলাকার বাসা থেকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে এরই মধ্যে একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

গত ১ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়।

এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। মামলার পর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ দলটির অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ২২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ জুলাই বসুন্ধরাসংলগ্ন কে বি কনভেনশন সেন্টারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা মিলে ৩০০-৪০০ জন লোক অংশ নেন। তারা সেখানে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন।

বৈঠকে পরিকল্পনা করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পাওয়ার পর সারাদেশ থেকে লোকজন এসে ঢাকায় সমবেত হবেন। তারা শাহবাগ মোড় দখল করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দেশে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করবেন। তারা সেখানে এসব ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

সরকার উৎখাতের এ পরিকল্পনার বিষয়টি কলকাতায় বসে সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া সরকার উৎখাতের এই পরিকল্পনায় কৌশলগত সহযোগিতা করেন দিল্লিতে অবস্থান করা পলাতক অতিরিক্ত আইজিপি ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং এসএসএফের সাবেক প্রধান পলাতক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমান।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া কে এই মেজর সাদেক?

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর