বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের তাদের এই সাক্ষাৎ হয়।
আজ বুধবার সেই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। ওই বৈঠকে তিনিও উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ব্যক্তিগতভাবে তারেক রহমানের সঙ্গে পরিচিত হতে এসেছিলো বলে জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির জানান, আলোচনা ছিলো সৌজন্যমূলক। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, তারেক রহমানের ভাবনা, উনি যদি নির্বাচিত হন তাহলে দেশ নিয়ে পরিকল্পনা-এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, তারেক রহমান ১৫ বছর কীভাবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, হাসিনাকে বিতাড়িত করার জন্য কীভাবে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন সেই গল্প শুনেছেন রাষ্ট্রদূত।
হুমায়ুন কবির বলেন, তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের সিনিয়র মোস্ট পলিটিক্যাল লিডার। পৃথিবী তাকিয়ে আছে আগামী নির্বাচনে উনার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দিকে। গত ১৫ বছর এত প্রতিকূলতার মধ্যেও লন্ডন থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। একটা পরিণতির দিকে নিয়ে এসেছেন। এজন্য তাকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এবছরেই মধ্যেই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে সেটা তো ঘোষণা হয়েই গেছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে নভেম্বর না হয় ডিসেম্বরে তফসিল হবে। তাহলে তো তিনি এই বছরই ফিরবেন।
এর আগে, গত ১৩ জুন লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানে বৈঠক হয়।
উল্লেখ্য, তারেক রহমান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) যান। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বহু মামলার আসামি হন তিনি। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে সাজাপ্রাপ্তও হন। এসবের মাঝে গত প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি লন্ডনে রাজনৈতিক নির্বাসনে আছেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আইনি জটিলটা কেটে গেছে বলেই প্রতিয়মান হয়। গত জুনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পরই জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় হিসেবে ফেব্রুয়ারির প্রথমাংশের কথা সামনে আসে।গতকাল জাতির উদ্দেশে ভাষণে একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তারেক রহমানের দল বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলে আসছেন তিনি যেকোনো সময় দেশে ফিরে আসতে পারেন। যদিও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন
