, | |

মূলপাতা জামায়াতে ইসলামী

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের সমাবেশ যেন জনসমুদ্র


আজ সকালেই কানায় কানায় পূর্ণ গেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশের সময় :১৯ জুলাই, ২০২৫ ১০:০১ : পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছে। সমাবেশ শুরুর ৬ ঘণ্টা আগেই দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রায় কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এছাড়া উদ্যানের বাইরেও অবস্থান করছেন জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মী। সমাবেশ রূপ নিয়েছে জনসমুদ্রে।

জুলাই গণহত্যার বিচার, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতকরণ এবং মৌলিক সংস্কারসহ ৭ দফা দাবিতে এই জাতীয় সমাবেশের আয়োজন করেছে জামায়াত।

আজ শনিবার দুপুর ২টা থেকে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভোরে সড়ক, নৌ এবং রেলপথে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করতে দেখা গেছে জামায়াতের নেতাকর্মীদের। গতকাল শুক্রবার রাতেও হাজারো নেতাকর্মী সোহরাওয়ার্দীতে জড়ো হন।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে যাচ্ছে জামায়াত। এর আগে জামায়াত কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলীয়ভাবে সমাবেশ করেনি। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীতে এটাই জামায়াতের বড় আকারের সমাবেশ। বিগত ১১ মাসে সারাদেশে জামায়াতের অনেক সভা-সমাবেশ হয়েছে। তবে রাজধানীতে তেমন বড় কোনো সমাবেশ হয়নি।

জামায়াত নেতারা আশা করছেন, সারাদেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ নেতাকর্মী এই সমাবেশে অংশ নেবেন। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের ব্যবস্থাপনা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ, যার জন্য তারা বিস্তারিত পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫০০ টিরও বেশি অস্থায়ী টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে, যা এতো বড় জনসমাগমের জন্য অপরিহার্য। ১ হাজারেরও বেশি পানির কল স্থাপন করা হয়েছে অজু ও পানীয় জলের জন্য, যা নেতা-কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করবে। মঞ্চের দুই পাশে দুটি বড় স্ক্রিন এবং সমাবেশের আশপাশের ৫০ টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এলইডি স্ক্রিন বসানো হয়েছে, যাতে দূর থেকেও সমাবেশের কার্যক্রম দেখা যায়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৪০০ টিরও বেশি মাইক বসানো হয়েছে, যাতে সমাবেশের বক্তব্য বহুদূর পর্যন্ত শোনা যায়। অতিথি ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বসার জন্য মঞ্চের সামনের দুই পাশে ৬০০টি চেয়ার রাখা হয়েছে।

 

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে আসা নেতাকর্মীরা রাজধানীতে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। নেতাকর্মীদের অনেকের হাতে তাদের দলীয় প্রতীক দাাঁড়িপাল্লা শোভা পাচ্ছে। দাঁড়িপাল্লা ও দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত টি-শার্ট, পাঞ্জাবি পরে এসেছেন হাজারো নেতাকর্মী।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের এই সমাবেশ সফল করতে দায়িত্ব পালন করছে ২০ হাজারের মতো স্বেচ্ছাসেবক। ভোর থেকে থেকে সমাবেশস্থলের আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্পটে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

আজ ভোরে হাইকোর্ট এলাকা, মৎস্যভবন, শাহবাগ এলাকার বিভিন্ন স্পট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

স্বেচ্ছাসেবকরা সবাই একই ধরনের ড্রেস পরে বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিয়েছেন। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করছেন। কোন অঞ্চলের মানুষ কোন গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন, তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

মৎস্যভবন স্পটের স্বেচ্ছাসেবক টিমের প্রধান মাসুদুর রহমান বলেন, সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করাই আমাদের উদ্দেশ্য। রাজধানীজুড়ে আমাদের ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশেই দায়িত্ব পালন করছেন ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক।

সমাবেশ থেকে সাত দাবি জানাবে জামায়াত
সমাবেশে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরবে জামায়াত। দাবিগুলো হলো-

১. ২০২৪ সালের ৫ আগস্টসহ পূর্ববর্তী গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
২. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে মৌলিক সংস্কার আনা।
৩. ঐতিহাসিক জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন।
৪. জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন।
৫. পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন।
৬. প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। এবং
৭. রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর