গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৪০০ জনকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক আহম্মেদ আলী এ মামলা দায়ের করেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এনসিপির কর্মসূচি চলাকালে সংঘর্ষে পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, ভাঙচুর, হামলা ও সহিংসতা চালানো হয়। এসব ঘটনার পর গোপালগঞ্জে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরের দিকে গোপালগঞ্জে সমাবেশ শেষে মাদারীপুর যাওয়ার পথে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা চালায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোপালগঞ্জ। সদর উপজেলার কংশুরে পুলিশ ও ইউএনওর গাড়ি, পৌর পার্কের সমাবেশস্থল, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, এমনকি জেলা কারাগারের চারপাশে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত এবং পুলিশ ও সাংবাদিকসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করে সরকার।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪৫ জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগসহ রাজধানী ও বিভিন্ন জেলায় সড়ক অবরোধ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা বিভিন্ন মসজিদে ঢুকে মাইক ব্যবহার করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নির্লিপ্ত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে কারফিউর সময় বাড়লো
