রাজনীতি সংবাদ প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ
প্রকাশের সময় : ১৬ জুলাই ২০২৫, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এতে পুলিশসহ আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ব্যাপক সংঘর্ষ ও হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জে আজ বুধবার রাত ৮টা হতে পর দিন বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে সরকার।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া অস্থিরতা ও সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারফিউ চলাকালীন সময়ে জনসাধারণের চলাচল সীমিত থাকবে এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন-গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (২৫) ও কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮)। বাকি দুজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
এদিকে গোপালগঞ্জে সমাবেশ শেষে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া এনসিপির শীর্ষ নেতারা গোপলগঞ্জ ছেড়ে গেছেন। তারা সমাবেশস্থল থেকে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্কে করে নিরাপদে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
গাড়িতে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলমসহ আরও অনেকে ছিলেন।
এর আগে দুপুরে দিকে গোপালগঞ্জে সমাবেশ শেষে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এছাড়া বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী গুলি ছোড়ে। পুলিশও বাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় গোপালগঞ্জ। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ জারি ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ১৪৪ ধারা জারি
