জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে গোপালগঞ্জ। সমাবেশ শেষে মাদারীপুর ফেরার পথে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর।
এরপরই পুলিশের সাথে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দু’পক্ষের সংঘর্ষ চলার মধ্যেই ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
আজ বুধবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি নেতাকর্মীদের ঘিরে হামলার চেষ্টা করে। তারা চারদিক থেকে এনসিপির নেতাকর্মী ও পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এনসিপির নেতাকর্মীরা অন্যদিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এনসিপির নেতাকর্মীদের গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এনসিপি নেতাকর্মীদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছোড়ে। ফাঁকা গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেনি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত পুলিশের সাথে হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিপির সমাবেশস্থলে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগকে দায়ী করেছে সমাবেশে উপস্থিত থাকা এনসিপির নেতাকর্মীরা।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা যখন রওনা দিয়েছি, তখন গ্রাম থেকে যত আওয়ামী লীগ-যুবলীগ, সারাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা এখন একটি জায়গায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পরিস্থিতি শান্ত। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন, আর্মি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
সমাবেশস্থলের মঞ্চের পাশাপাশি চেয়ারগুলো রাস্তায় এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শহরের সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং যানচলাচলও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া সড়ক, গোপালগঞ্জ টেকেরহাট সড়ক ও টুঙ্গিপাড়ায় এপিসি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী।
এর আগে আজ সকালে এনসিপির ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ইউএনও’র গাড়িবহরে হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা পুলিশ ও ইউএনও’র গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে এনসিপির মঞ্চে হামলা, ভাঙচুর
