যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সোবহান মিয়া গোলাপের ৯টি ফ্ল্যাট, বাড়ি ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব অবৈধ সম্পদ ক্রয়ের অভিযোগে তার নামে মামলা দায়ের করেছে দুদক।
আজ বুধবার কমিশনের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।
আব্দুস সোবহান মিয়া গোলাপ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বিশেষ সহকারী ও মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, আব্দুস সোবহান গোলাপ সংসদ সদস্য হিসেবে পাবলিক সার্ভেন্ট হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্স-এ ৯টি ফ্ল্যাট ও বাড়ি, যার মূল্যমান বাংলাদেশি টাকায় ৩২ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে কমিশন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ ৬৮ কোটি ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৫ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিকানা অর্জন করে ও তা ভোগদখলে রাখেন। এছাড়া তাঁর নিজ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫১টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৯৭ কোটি ৬৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৮৮ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন অভিযোগ আনা হয়েছে।
গোলাপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারার এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
৯ জানুয়ারি গোলাপ এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দেয় আদালত।
আদালতের সম্পদ জব্দের আদেশের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য গোলাপ, তার স্ত্রী গুলশান আরা মিয়া, ছেলে ইভান সোবহান মিয়া ও মেয়ে আনিশা গোলাপ মিয়ার নামে এসব স্থাবর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে গোলাপ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা মিরপুরের একটি পাঁচতলা বাড়িও জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িগুলোর মধ্যে আটটি সিঙ্গেল রেসিডেনসিয়াল কন্ডো ইউনিট এবং অপরটি ডুয়েল ফ্যামিলি ইউনিট বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে দুদকের আবেদনে। গত বছরের ২ অক্টোবর সাবেক এ সংসদ সদস্যের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় একই আদালত। সরকার পতনের পর আত্মগোপনে থাকা গোলাপকে রাজধানীর নাখালপাড়ার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ঢাকায় একটি হত্যার ঘটনাসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের জন্য লাল গালিচা নিয়ে অপেক্ষায় চীন
