আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
বিবিসি সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। আমি তাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। কে নির্বাচনে অংশ নেবে, সেটা ঠিক করে নির্বাচন কমিশন।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আর অর্থনীতি। এটি একটি ভেঙে পড়া, বিধ্বস্ত অর্থনীতি। এটা এমন যেন ১৬ বছর ধরে একটি ভয়াবহ টর্নেডো বয়ে গেছে, আমরা এখন সেই ভাঙা টুকরাগুলো জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছি।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে যেকোনো সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেটা নির্ভর করছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কত দ্রুত তার সরকার সংস্কারপ্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সময়ে সংস্কার হলে নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে, আর সংস্কারের বেশি দরকার হলে নির্বাচন হতে আরো কয়েক মাস লাগতে পারে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেন এখনো স্বাভাবিক হয়নি-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ভালো থাকা একটি আপেক্ষিক বিষয়, যদি আপনি গত বছরের এই সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন, তবে সব ঠিক আছে বলেই মনে হয়। ’
তিনি বলেন, এখন যা ঘটছে, তা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা কিছু নয়। বাংলাদেশে বর্তমানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে ক্ষমতাচ্যুত সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘আমি চাই না এসব ঘটনা ঘটুক। আপনাকে বিবেচনা করতে হবে, আমরা কোনো আদর্শ দেশ বা আদর্শ শহর নই যে হঠাৎ আমরা তৈরি করেছি। এটি একটি দেশের ধারাবাহিকতা, যা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, একটি দেশে যা বহু বছর ধরে চলমান।’
আরও পড়ুন: এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা
