পোশাক কারখানায় নাশকতার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির উস্কানিদাতা ছাত্রলীগ নেতা ইশতিয়াক আহমেদ হৃদয়কে আটক করেছে পুলিশ।
গত রোববার রাতে তাকে নেত্রকোণার কেন্দুয়া থেকে আটক করা হয়। পরে আজ সোমবার সন্ধ্যায় নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. ফয়েজ আহমদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
ফয়েজ আহমদ বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোশাকশ্রমিকদের উদ্দেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ভাইরাল হন হৃদয়। পরে রোববার রাতে তাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোণার কেন্দুয়া থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, হৃদয়কে কেন্দুয়া থানার নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার বিকেলে তাকে আদালতের প্রেরণ করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, হৃদয় ছাত্রলীগের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা কমিটির শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার আঠারবাড়ী।
তুমুল গণআন্দোলনের মধ্যে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন শ্রেণি-গোষ্ঠীর নানা দাবি নিয়ে রাজপথে নামার পর এবার পোশাক ও ওষুধ শিল্পেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গাজীপুর ও সাভারে শিল্প এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে প্রতিদিনই বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে হচ্ছে।
হঠাৎ করেই তৈরি শিল্প শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এমন কিছু দাবি উঠছে, যা এর আগে কখনও শোনা যায়নি।
দাবি উঠেছে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা সমান হতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্প বড় হয়ে ওঠার পর থেকেই নারী শ্রমিকের প্রাধান্য ছিল, কখনো এ নিয়ে আপত্তি ওঠেনি। হঠাৎ এমন দাবি নিয়ে বিস্মিত এই শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
গত জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কাঠামো মেনে নিয়েই কাজ চলছে, সাত মাস যেতে না যেতেই বেতন বাড়ানোর দাবি উঠছে, মজুরি কাঠামোতে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির কথা উল্লেখ আছে, এবার সেই বেতন বৃদ্ধি ১৫ শতাংশ করার কথা বলা হচ্ছে, এমন কথাও কেউ কখনো শোনেনি।
বিক্ষোভ ও আন্দোলনের সুযোগে কারখানা ভাঙচুর ও লুটের চেষ্টাও হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘গুলিতে নিহতদের মৃত্যু সনদ পরিবর্তনের নির্দেশ ছিল’
