রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ৯ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা দেশজুড়ে

‘ক্রাইম পেট্রোল দেখে শিখেছি’, স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ডে গৃহশিক্ষকের স্বীকারোক্তি


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৯:৩১ : অপরাহ্ণ
গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুরে স্কুলছাত্রী তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি (২৮) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ শনিবার নোয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমদাদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার জানান, আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাকে রিমান্ডে আনা হয়।

আসামির স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্কুলছাত্রীর বাসার তৃতীয় তলায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিল রনি। স্কুলছাত্রীর বাসার দরজার সামনে গিয়ে নক দিলে দরজা খুলে দেয় ওই ছাত্রী। কোচিং শিক্ষক থাকায় তাকে ভিতরে বসতে বলেন। কিছুক্ষণ তার সঙ্গে গল্প করার পর স্কুলছাত্রী রান্না ঘরে গেলে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে পাশের কক্ষে এনে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। এ সময় তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় স্কুলছাত্রীর এবং রনির গলা ও ঘাড়ে নখ দিয়ে আঁচড়ে দেয়। বিষয়টি সবাইকে বলে দেয়ারও হুমকি দেয় স্কুলছাত্রী।

শহীদুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে রনি স্কুলছাত্রী পরনের ওড়না দিয়ে তার হাত বেঁধে ফেলেন এবং মুখ চেপে ধরেন। এতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে স্কুলছাত্রী। পরে বালিশ দিয়ে চাপা দিলে স্কুলছাত্রী নিস্তেজ হয়ে যায়। এসব ঘটনার সময় স্কুলছাত্রীর চিৎকারের শব্দ যেন বাইরে না আসে সেজন্য টিভিতে ফুল ভলিউম, পানির ট্যাব ও ফ্যানগুলো চালিয়ে রাখে রনি।

পুলিশ সুপার বলেন, পুরো ঘটনাটি টিভিতে ক্রাইম পেট্রোল দেখে হত্যার বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য রান্না ঘর থেকে একটি ছোরা এনে প্রথমে স্কুলছাত্রীর দুই হাতের রগ ও পরে গলা কেটে দেন। ঘটনাটি ডাকাতি প্রমাণ করার জন্য ঘরের আলমারিসহ বিভিন্নস্থানে থাকা জিনিসপত্র এলোমেলো করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় বাইরে দিয়ে তালা দিয়ে চলে যান রনি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনা তিনি একা ঘটিয়েছেন বলেও স্বীকার করেছে। তারপরও এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। আপাতত এ ঘটনায় তার মায়ের দায়ের করা মামলায় আবদুর রহিম রনিকে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজনীতি সংবাদের ফেসবুক পেজ হ্যাকড

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের মা রাজিয়া সুলতানা, বোন ও স্বজনরা। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে সদ্য পদন্নোতি পাওয়া পুলিশ সুপার দ্বীপক জ্যোতি খীষা, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলামসহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর