, | |

মূলপাতা আওয়ামী লীগ

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী আজ


প্রকাশের সময় :৮ আগস্ট, ২০২১ ১:০১ : পূর্বাহ্ণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, বাঙালির সব লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী আজ।

এই মহীয়সী নারী ১৯৩০ সালের আজকের দিনে ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ আপসহীন লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে শুধু বাঙালি জাতির পিতাই হননি, বিশ্ব বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তারই সহধর্মিণী, মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩০ সালের এই দিন, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। বেঁচে থাকলে আজ তার বয়স হতো ৯১ বছর। তার ডাক নাম ছিল রেণু। পিতা শেখ জহুরুল হক ও মাতা হোসনে আরা বেগম।

রেণুর বয়স যখন ৫, তখনই পিতা-মাতাকে হারান তিনি। তার পিতা শেখ জহুরুল হক ছিলেন সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর চাচা। ১৯৩৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যখন রেণুর বিয়ে হয়, তখন তার বয়স ছিল মাত্র তিন বছর।

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব

বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও বিয়ের ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘একটা ঘটনা লেখা দরকার, নিশ্চয়ই অনেকে আশ্চর্য হবেন। আমার যখন বিবাহ হয়, তখন আমার বয়স বারো-তেরো বছর হতে পারে। রেণুর বাবা মারা যাবার পরে ওর দাদা আমার আব্বাকে ডেকে বললেন যে, আমার সাথে তার এক নাতনির বিবাহ দিতে হবে। কারণ তিনি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ওদের দুই বোনকে লিখে দিয়ে যাবেন।

‘রেণুর দাদা আমার আব্বার চাচা। মুরব্বির হুকুম মানার জন্যই রেণুর সাথে আমার বিবাহ রেজিস্ট্রি করে ফেলা হলো। আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে। তখন কিছুই বুঝতাম না, রেণুর বয়স তখন বোধ হয় তিন বছর হবে। রেণুর যখন পাঁচ বছর বয়স, তখন তার মা হোসনে আরা বেগম মারা যান। একমাত্র রইল তার দাদা। রেণুর সাত বছর বয়সে দাদাও মারা যান। তারপর সে আমার মায়ের কাছে চলে আসে। রেণুদের ঘর আমার ঘর পাশাপাশি ছিল, মধ্যে মাত্র দুই হাত ব্যবধান।’

বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী হিসেবে দীর্ঘকাল তার পাশে থেকে মানবকল্যাণ ও রাজনীতির যে শিক্ষা তিনি লাভ করেছেন, তাতে তিনি একজন বিদুষী ও প্রজ্ঞাবান নারীতে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছায়ার মতো অনুসরণ করে তার প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস হয়েছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে একাত্তরের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণের ঠিক আগ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু যখন কী বলবেন তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন, তখন তাকে সাহস জুগিয়েছিলেন শেখ ফজিলাতুন্নেছাই।

সেদিন বেগম মুজিব বলেছিলেন, ‘সারা জীবন তুমি সংগ্রাম করেছ, তুমি জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করেছ, তুমি জানো যে এ দেশের মানুষের জন্য কী চাই, তোমার থেকে বেশি কেউ জানে না, তোমার মনে যে কথা আসবে, তুমি শুধু সেই কথাই বলবে, কারো কথা শুনতে হবে না।’

এরপরেই বঙ্গবন্ধু তার ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ মন্ত্র উচ্চারণ করেন, যার ফলশ্রুতিতেই পরবর্তীতে আসে বঞ্চনা থেকে মুক্তি।

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব

একাত্তরের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসা থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। সে সময় গ্রেপ্তার হন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবও। তখন তার সঙ্গে ছিলেন শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল। তাদের বন্দি রাখা হয় ধানমন্ডির ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসায়। পরবর্তীতে শেখ জামাল পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পরের দিন যৌথবাহিনী তাদের সেখান থেকে মুক্ত করে।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যেমন জাতির পিতা পরিচয় লাভ করেন, তেমনি প্রেরণাদায়ী হিসেবে ‘বঙ্গমাতা’ পরিচয় লাভ করেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। স্বাধীনতার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্বামীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে পেছন থেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন এই মহিয়সি নারী।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন তিনিও।

বঙ্গমাতার জন্মদিনে সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ১০টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা। সভা শেষে এক হাজার চিকিৎসককে করোনার সুরক্ষা সামগ্রী উপহার দেয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর