‘কার নির্দেশে নিরীহ-নিরস্ত্র মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর হামলা করা হয়েছে’-এমন প্রশ্ন রেখে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। পুলিশের গুলিতে নিহত তৌহিদি জনতার প্রতি ফোঁটা রক্তের বদলা নেওয়া হবে।’
আজ শনিবার (২৭ মার্চ) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি বার্তা দেন।
বিবৃতিতে আগামীকাল রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতের আমীর।
হাটহাজারী দারুল উলূম মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘ভারতের কসাই মোদির আগমনের প্রতিবাদে গতকাল ঢাকা বায়তুল মোকাররম, হাটহাজারী, যাত্রাবাড়ী, বি-বাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনরত তৌহিদি জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে আনুমানিক ছয়জনকে শহীদ করা হয়েছে এবং গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে প্রায় চারশত প্রতিবাদী তৌহিদি জনতাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এভাবে পুলিশের গুলিবর্ষণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা কখনো মেনে নেওয়া যায় না।’
হেফাজতের আমির বলেন, ‘তৌহিদি জনতার এ আন্দোলন দেশ কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে ছিল না। এই আন্দোলন ছিল মুসলমানদের রক্তখেকো, বাবরি মসজিদ ধ্বংসকারী মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে। এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে তৌহিদি জনতার উপর পুলিশের এমন বর্বরোচিত হামলা বরদাশত করা যায় না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মোদির আগমনের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তৌহিদি জনতা । বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনরতদের ওপর হামলার সংবাদ পাওয়া গেছে। হাটহাজারীতে আমার কলিজার টুকরা চারজন ভাইকে শহিদ করা হয়েছে।’
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হেফাজতের আমির বলেন, ‘মোদি ইস্যুতে যদি আর একজন তৌহিদি জনতার রক্ত ঝরে বা ওলামায়ে কেরামকে হামলা-মামলা ও হয়রানি করা হয়, তাহলে এর প্রতিবাদে পুরো দেশে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে। প্রয়োজনে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।’
