, | |

মূলপাতা ফটো গ্যালারি

একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ


জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি।


প্রকাশের সময় : ১ জানুয়ারি ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ

এ এক মহাকাব্যিক প্রস্থান। একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ। দেশের কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ৩১ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকা এক নজিরবিহীন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। এই জানাজায় জনসমুদ্র শব্দটিও যেন বিশালতার কাছে হার মেনেছে।

সকালের কুয়াশাচ্ছন্ন সূর্য ওঠার আগেই দেশের প্রতিটি প্রান্ত-টেকনাফের নাফ নদী থেকে শুরু করে তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা পর্যন্ত-প্রতিটি জনপদ থেকে আসা মানুষের অন্তহীন স্রোত ঢাকার প্রতিটি প্রবেশপথ ও মহাসড়ককে কার্যত অচল করে দেয়।

একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ

বিকেল ৩টায় যখন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়, তখন মানিক মিয়া এভিনিউয়ের আশেপাশের সড়কগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে কেবল মানুষের মাথা আর শোকাতুর মুখচ্ছবি চোখে পড়ছিল। মানিক মিয়া এভিনিউ ছাপিয়ে জনস্রোত আছড়ে পড়ে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে।

একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ এ এক মহাকাব্যিক প্রস্থান। দেশের কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ৩১ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকা এক নজিরবিহীন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। এই জানাজায় জনসমুদ্র শব্দটিও যেন বিশালতার কাছে হার মানে। সকালের কুয়াশাচ্ছন্ন সূর্য ওঠার আগেই দেশের প্রতিটি প্রান্ত-টেকনাফের নাফ নদী থেকে শুরু করে তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা পর্যন্ত-প্রতিটি জনপদ থেকে আসা মানুষের অন্তহীন স্রোত ঢাকার প্রতিটি প্রবেশপথ ও মহাসড়ককে কার্যত অচল করে দেয়। বিকেল ৩টায় যখন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়, তখন মানিক মিয়া এভিনিউয়ের আশেপাশের সড়কগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে কেবল মানুষের মাথা আর শোকাতুর মুখচ্ছবি চোখে পড়ছিল। মানিক মিয়া এভিনিউ ছাপিয়ে জনস্রোত আছড়ে পড়ে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে। জানাজাস্থল মানিক মিয়া এভিনিউ পূর্ণ হয়ে মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে উত্তরে জাহাঙ্গীর গেট, পশ্চিমে মিরপুর রোড এবং পূর্বে ফার্মগেট পেরিয়ে কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও মগবাজার পর্যন্ত। মাইকের আওয়াজ যতদূর পৌঁছিয়েছে, মানুষ ততদূরেই রাস্তায় কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যেদিকে চোখ গিয়েছে সেদিকেই কেবল চোখে পড়েছে মানুষের ঢল। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। কেউ বাসায়, কেউবা ফুটওভার ব্রিজে-যে যেখানে জায়গা পেয়েছেন জানাজায় দাঁড়িয়ে গেছেন। শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নন, সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন। সংসদ ভবন এলাকার গাছ, ফুটপাত, এমনকি নিকটস্থ ভবনগুলোর ছাদও ছিল লোকে লোকারণ্য। শোনা গেছে লাখো কণ্ঠের কান্নাজড়িত দোয়া। অনেকের চোখের কোণে ছিল জল, কেউবা হাত তুলে নীরবে দোয়া করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা, যেখানে মানুষের উপস্থিতি কেবল সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা ছিল এক অসম্ভব প্রয়াস। কফিন যখন শুভ্র ফুলের চাদরে আবৃত হয়ে জানাজার মঞ্চের দিকে আনা হচ্ছিলো, তখন গগনবিদারী ক্রন্দন আর ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে পুরো এলাকা এক অপার্থিব ও আধ্যাত্মিক আবহের সৃষ্টি করে। উপস্থিত অগণিত মানুষের প্রতিটি অশ্রুবিন্দু যেন তার দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতি এক একটি জীবন্ত সাক্ষ্য দিচ্ছিলো। রাষ্ট্রীয় সম্মাননার অংশ হিসেবে যখন সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত চৌকস দল খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো গার্ড অব অনার প্রদান করছিল, তখন বিউগলের সেই করুণ সুর প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধছিল, যা উপস্থিত লক্ষ লক্ষ মানুষকে অশ্রুভেজা চোখে স্তব্ধ করে দেয়। আশির দশকের উত্তাল রাজপথ থেকে শুরু করে সেনাশাসকের পতন ঘটানো, সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থান এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে খালেদা জিয়ার যে অনবদ্য ও কালজয়ী ভূমিকা, তার শেষ বিদায়ে মানুষ তা পরম শ্রদ্ধায় ও বেদনার্ত হৃদয়ে স্মরণ করছিল। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই জনপদ এর আগে কবে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও বাঁধভাঙা মানুষের ঢল দেখেছিল, তা নিয়ে প্রবীণরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এটি কেবল একটি জানাজা ছিল না, বরং ছিল একজন কিংবদন্তি নেত্রীর প্রতি এদেশের আপামর জনতার অকৃত্রিম ভালোবাসা, গভীর কৃতজ্ঞতা ও এক ঐতিহাসিক নীরব প্রতিবাদের স্মারক। দলমত-নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের এই ঢল প্রমাণ করেছে, রাজনীতির ‘আপোসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীরে স্থান করে নিয়েছিলেন। প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন, ‘দেশে এমন জানাজা এর আগে আর দেখেনি কেউ।’ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মূল জানাজার সঙ্গে মিল রেখে একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানেও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসব গায়েবানা জানাজায়ও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। শুধু দেশে নয়, চীনেও খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ রোগভোগ, কারাবাস আর নানা চড়াই উৎরাইয়ের পর তার খালেদা জিয়ার এই বিদায় প্রমাণ করে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও একজন নেতা কীভাবে গণমানুষের মনে বেঁচে থাকতে পারেন। জাতীয় সংসদ ভবনে জানাজা শেষে যখন কফিনবাহী গাড়িটি শেরেবাংলা নগরের দিকে ধীরলয়ে যাত্রা শুরু করে, তখন ঢাকার রাজপথের দৃশ্য ছিল বর্ণনাতীত। রাস্তার দুই ধারের সুউচ্চ অট্টালিকার বারান্দা থেকে শুরু করে ফুটপাথ, গাছের ডাল কিংবা ল্যাম্পপোস্ট-কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। হাজার হাজার মানুষ মুঠো মুঠো ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাঁদের প্রিয় ‘দেশনেত্রী’ ও ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’কে শেষ বিদায়ের অভিবাদন জানান। অনেকে প্রিয় নেত্রীর কফিনটি একবার ছুঁয়ে দেখার জন্য ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন, তাদের চোখে-মুখে ছিল এক আপনজনকে হারানোর তীব্র হাহাকার। দীর্ঘ কয়েক দশকের বিরহ, একাকী সংগ্রাম এবং শোকগাথা পেরিয়ে খালেদা জিয়া আবার ফিরে গেলেন তার চিরকালের জীবনসঙ্গী ও আদর্শিক গুরু শহীদ জিয়াউর রহমানের পাশে। স্বামীর কবরের পাশেই তার এই অন্তিম শয়ান যেন এক ঐতিহাসিক ও শাশ্বত পুনর্মিলন, যা বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক অমর কাব্য হয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।খালেদা জিয়া, করেছেন কারাভোগ। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাকে। ফলে ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরদিন ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে চিকিৎসা শেষে ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর শারীরিক নানা জটিলতায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

জানাজাস্থল মানিক মিয়া এভিনিউ পূর্ণ হয়ে মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে উত্তরে জাহাঙ্গীর গেট, পশ্চিমে মিরপুর রোড এবং পূর্বে ফার্মগেট পেরিয়ে কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও মগবাজার পর্যন্ত। মাইকের আওয়াজ যতদূর পৌঁছিয়েছে, মানুষ ততদূরেই রাস্তায় কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যেদিকে চোখ গিয়েছে সেদিকেই কেবল চোখে পড়েছে মানুষের ঢল। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।

একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ

কেউ বাসায়, কেউবা ফুটওভার ব্রিজে-যে যেখানে জায়গা পেয়েছেন জানাজায় দাঁড়িয়ে গেছেন। শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নন, সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন। সংসদ ভবন এলাকার গাছ, ফুটপাত, এমনকি নিকটস্থ ভবনগুলোর ছাদও ছিল লোকে লোকারণ্য। শোনা গেছে লাখো কণ্ঠের কান্নাজড়িত দোয়া। অনেকের চোখের কোণে ছিল জল, কেউবা হাউমাউ করে কেঁদেছেন।

একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা, যেখানে মানুষের উপস্থিতি কেবল সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা ছিল এক অসম্ভব প্রয়াস। কফিন যখন শুভ্র ফুলের চাদরে আবৃত হয়ে জানাজার মঞ্চের দিকে আনা হচ্ছিলো, তখন গগনবিদারী ক্রন্দন আর ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে পুরো এলাকা এক অপার্থিব ও আধ্যাত্মিক আবহের সৃষ্টি করে। উপস্থিত অগণিত মানুষের প্রতিটি অশ্রুবিন্দু যেন তার দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতি এক একটি জীবন্ত সাক্ষ্য দিচ্ছিলো।

একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ

রাষ্ট্রীয় সম্মাননার অংশ হিসেবে যখন সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত চৌকস দল খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো গার্ড অব অনার প্রদান করছিল, তখন বিউগলের সেই করুণ সুর প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধছিল, যা উপস্থিত লক্ষ লক্ষ মানুষকে অশ্রুভেজা চোখে স্তব্ধ করে দেয়।

একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ

আশির দশকের উত্তাল রাজপথ থেকে শুরু করে সেনাশাসকের পতন ঘটানো, সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থান এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘রাজনীতির ধ্রুবতারা’ খালেদা জিয়ার যে অনবদ্য ও কালজয়ী ভূমিকা, তার শেষ বিদায়ে মানুষ তা পরম শ্রদ্ধায় ও বেদনার্ত হৃদয়ে স্মরণ করছিল।

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই জনপদ এর আগে কবে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও বাঁধভাঙা মানুষের ঢল দেখেছিল, তা নিয়ে প্রবীণরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এটি কেবল একটি জানাজা ছিল না, বরং ছিল একজন কিংবদন্তি নেত্রীর প্রতি এদেশের আপামর জনতার অকৃত্রিম ভালোবাসা, গভীর কৃতজ্ঞতা ও এক ঐতিহাসিক নীরব প্রতিবাদের স্মারক।

একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ এ এক মহাকাব্যিক প্রস্থান। দেশের কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ৩১ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকা এক নজিরবিহীন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। এই জানাজায় জনসমুদ্র শব্দটিও যেন বিশালতার কাছে হার মানে। সকালের কুয়াশাচ্ছন্ন সূর্য ওঠার আগেই দেশের প্রতিটি প্রান্ত-টেকনাফের নাফ নদী থেকে শুরু করে তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা পর্যন্ত-প্রতিটি জনপদ থেকে আসা মানুষের অন্তহীন স্রোত ঢাকার প্রতিটি প্রবেশপথ ও মহাসড়ককে কার্যত অচল করে দেয়। বিকেল ৩টায় যখন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়, তখন মানিক মিয়া এভিনিউয়ের আশেপাশের সড়কগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে কেবল মানুষের মাথা আর শোকাতুর মুখচ্ছবি চোখে পড়ছিল। মানিক মিয়া এভিনিউ ছাপিয়ে জনস্রোত আছড়ে পড়ে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে। জানাজাস্থল মানিক মিয়া এভিনিউ পূর্ণ হয়ে মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে উত্তরে জাহাঙ্গীর গেট, পশ্চিমে মিরপুর রোড এবং পূর্বে ফার্মগেট পেরিয়ে কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও মগবাজার পর্যন্ত। মাইকের আওয়াজ যতদূর পৌঁছিয়েছে, মানুষ ততদূরেই রাস্তায় কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যেদিকে চোখ গিয়েছে সেদিকেই কেবল চোখে পড়েছে মানুষের ঢল। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। কেউ বাসায়, কেউবা ফুটওভার ব্রিজে-যে যেখানে জায়গা পেয়েছেন জানাজায় দাঁড়িয়ে গেছেন। শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নন, সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন। সংসদ ভবন এলাকার গাছ, ফুটপাত, এমনকি নিকটস্থ ভবনগুলোর ছাদও ছিল লোকে লোকারণ্য। শোনা গেছে লাখো কণ্ঠের কান্নাজড়িত দোয়া। অনেকের চোখের কোণে ছিল জল, কেউবা হাত তুলে নীরবে দোয়া করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা, যেখানে মানুষের উপস্থিতি কেবল সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা ছিল এক অসম্ভব প্রয়াস। কফিন যখন শুভ্র ফুলের চাদরে আবৃত হয়ে জানাজার মঞ্চের দিকে আনা হচ্ছিলো, তখন গগনবিদারী ক্রন্দন আর ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে পুরো এলাকা এক অপার্থিব ও আধ্যাত্মিক আবহের সৃষ্টি করে। উপস্থিত অগণিত মানুষের প্রতিটি অশ্রুবিন্দু যেন তার দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতি এক একটি জীবন্ত সাক্ষ্য দিচ্ছিলো। রাষ্ট্রীয় সম্মাননার অংশ হিসেবে যখন সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত চৌকস দল খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো গার্ড অব অনার প্রদান করছিল, তখন বিউগলের সেই করুণ সুর প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধছিল, যা উপস্থিত লক্ষ লক্ষ মানুষকে অশ্রুভেজা চোখে স্তব্ধ করে দেয়। আশির দশকের উত্তাল রাজপথ থেকে শুরু করে সেনাশাসকের পতন ঘটানো, সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থান এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে খালেদা জিয়ার যে অনবদ্য ও কালজয়ী ভূমিকা, তার শেষ বিদায়ে মানুষ তা পরম শ্রদ্ধায় ও বেদনার্ত হৃদয়ে স্মরণ করছিল। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই জনপদ এর আগে কবে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও বাঁধভাঙা মানুষের ঢল দেখেছিল, তা নিয়ে প্রবীণরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এটি কেবল একটি জানাজা ছিল না, বরং ছিল একজন কিংবদন্তি নেত্রীর প্রতি এদেশের আপামর জনতার অকৃত্রিম ভালোবাসা, গভীর কৃতজ্ঞতা ও এক ঐতিহাসিক নীরব প্রতিবাদের স্মারক। দলমত-নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের এই ঢল প্রমাণ করেছে, রাজনীতির ‘আপোসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীরে স্থান করে নিয়েছিলেন। প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন, ‘দেশে এমন জানাজা এর আগে আর দেখেনি কেউ।’ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মূল জানাজার সঙ্গে মিল রেখে একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানেও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসব গায়েবানা জানাজায়ও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। শুধু দেশে নয়, চীনেও খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ রোগভোগ, কারাবাস আর নানা চড়াই উৎরাইয়ের পর তার খালেদা জিয়ার এই বিদায় প্রমাণ করে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও একজন নেতা কীভাবে গণমানুষের মনে বেঁচে থাকতে পারেন। জাতীয় সংসদ ভবনে জানাজা শেষে যখন কফিনবাহী গাড়িটি শেরেবাংলা নগরের দিকে ধীরলয়ে যাত্রা শুরু করে, তখন ঢাকার রাজপথের দৃশ্য ছিল বর্ণনাতীত। রাস্তার দুই ধারের সুউচ্চ অট্টালিকার বারান্দা থেকে শুরু করে ফুটপাথ, গাছের ডাল কিংবা ল্যাম্পপোস্ট-কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। হাজার হাজার মানুষ মুঠো মুঠো ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাঁদের প্রিয় ‘দেশনেত্রী’ ও ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’কে শেষ বিদায়ের অভিবাদন জানান। অনেকে প্রিয় নেত্রীর কফিনটি একবার ছুঁয়ে দেখার জন্য ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন, তাদের চোখে-মুখে ছিল এক আপনজনকে হারানোর তীব্র হাহাকার। দীর্ঘ কয়েক দশকের বিরহ, একাকী সংগ্রাম এবং শোকগাথা পেরিয়ে খালেদা জিয়া আবার ফিরে গেলেন তার চিরকালের জীবনসঙ্গী ও আদর্শিক গুরু শহীদ জিয়াউর রহমানের পাশে। স্বামীর কবরের পাশেই তার এই অন্তিম শয়ান যেন এক ঐতিহাসিক ও শাশ্বত পুনর্মিলন, যা বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক অমর কাব্য হয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।খালেদা জিয়া, করেছেন কারাভোগ। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাকে। ফলে ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরদিন ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে চিকিৎসা শেষে ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর শারীরিক নানা জটিলতায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

দলমত-নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের এই ঢল প্রমাণ করেছে, রাজনীতির ‘আপোসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীরে স্থান করে নিয়েছিলেন। প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন, ‘দেশে এমন জানাজা এর আগে আর দেখেনি কেউ।’

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মূল জানাজার সঙ্গে মিল রেখে একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানেও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসব গায়েবানা জানাজায়ও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। শুধু দেশে নয়, মালদ্বীপ, আরব আমিরাত, চীনেও খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ

দীর্ঘ রোগভোগ, কারাবাস আর নানা চড়াই উৎরাইয়ের পর তার খালেদা জিয়ার এই বীরোচিত বিদায় প্রমাণ করে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও একজন নেতা কীভাবে গণমানুষের মনে বেঁচে থাকতে পারেন।

জাতীয় সংসদ ভবনে জানাজা শেষে যখন কফিনবাহী গাড়িটি শেরেবাংলা নগরের দিকে ধীরলয়ে যাত্রা শুরু করে, তখন ঢাকার রাজপথের দৃশ্য ছিল বর্ণনাতীত। রাস্তার দুই ধারের সুউচ্চ অট্টালিকার বারান্দা থেকে শুরু করে ফুটপাথ, গাছের ডাল কিংবা ল্যাম্পপোস্ট-কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। হাজার হাজার মানুষ মুঠো মুঠো ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাদের প্রিয় ‘দেশনেত্রী’ ও ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’কে শেষ বিদায়ের অভিবাদন জানান। অনেকে প্রিয় নেত্রীর কফিনটি একবার ছুঁয়ে দেখার জন্য ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন, তাদের চোখে-মুখে ছিল এক আপনজনকে হারানোর তীব্র হাহাকার।

একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ এ এক মহাকাব্যিক প্রস্থান। দেশের কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ৩১ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকা এক নজিরবিহীন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। এই জানাজায় জনসমুদ্র শব্দটিও যেন বিশালতার কাছে হার মানে। সকালের কুয়াশাচ্ছন্ন সূর্য ওঠার আগেই দেশের প্রতিটি প্রান্ত-টেকনাফের নাফ নদী থেকে শুরু করে তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা পর্যন্ত-প্রতিটি জনপদ থেকে আসা মানুষের অন্তহীন স্রোত ঢাকার প্রতিটি প্রবেশপথ ও মহাসড়ককে কার্যত অচল করে দেয়। বিকেল ৩টায় যখন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়, তখন মানিক মিয়া এভিনিউয়ের আশেপাশের সড়কগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে কেবল মানুষের মাথা আর শোকাতুর মুখচ্ছবি চোখে পড়ছিল। মানিক মিয়া এভিনিউ ছাপিয়ে জনস্রোত আছড়ে পড়ে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে। জানাজাস্থল মানিক মিয়া এভিনিউ পূর্ণ হয়ে মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে উত্তরে জাহাঙ্গীর গেট, পশ্চিমে মিরপুর রোড এবং পূর্বে ফার্মগেট পেরিয়ে কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও মগবাজার পর্যন্ত। মাইকের আওয়াজ যতদূর পৌঁছিয়েছে, মানুষ ততদূরেই রাস্তায় কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যেদিকে চোখ গিয়েছে সেদিকেই কেবল চোখে পড়েছে মানুষের ঢল। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। কেউ বাসায়, কেউবা ফুটওভার ব্রিজে-যে যেখানে জায়গা পেয়েছেন জানাজায় দাঁড়িয়ে গেছেন। শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নন, সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন। সংসদ ভবন এলাকার গাছ, ফুটপাত, এমনকি নিকটস্থ ভবনগুলোর ছাদও ছিল লোকে লোকারণ্য। শোনা গেছে লাখো কণ্ঠের কান্নাজড়িত দোয়া। অনেকের চোখের কোণে ছিল জল, কেউবা হাত তুলে নীরবে দোয়া করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা, যেখানে মানুষের উপস্থিতি কেবল সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা ছিল এক অসম্ভব প্রয়াস। কফিন যখন শুভ্র ফুলের চাদরে আবৃত হয়ে জানাজার মঞ্চের দিকে আনা হচ্ছিলো, তখন গগনবিদারী ক্রন্দন আর ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে পুরো এলাকা এক অপার্থিব ও আধ্যাত্মিক আবহের সৃষ্টি করে। উপস্থিত অগণিত মানুষের প্রতিটি অশ্রুবিন্দু যেন তার দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতি এক একটি জীবন্ত সাক্ষ্য দিচ্ছিলো। রাষ্ট্রীয় সম্মাননার অংশ হিসেবে যখন সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত চৌকস দল খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো গার্ড অব অনার প্রদান করছিল, তখন বিউগলের সেই করুণ সুর প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধছিল, যা উপস্থিত লক্ষ লক্ষ মানুষকে অশ্রুভেজা চোখে স্তব্ধ করে দেয়। আশির দশকের উত্তাল রাজপথ থেকে শুরু করে সেনাশাসকের পতন ঘটানো, সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থান এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে খালেদা জিয়ার যে অনবদ্য ও কালজয়ী ভূমিকা, তার শেষ বিদায়ে মানুষ তা পরম শ্রদ্ধায় ও বেদনার্ত হৃদয়ে স্মরণ করছিল। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই জনপদ এর আগে কবে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও বাঁধভাঙা মানুষের ঢল দেখেছিল, তা নিয়ে প্রবীণরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এটি কেবল একটি জানাজা ছিল না, বরং ছিল একজন কিংবদন্তি নেত্রীর প্রতি এদেশের আপামর জনতার অকৃত্রিম ভালোবাসা, গভীর কৃতজ্ঞতা ও এক ঐতিহাসিক নীরব প্রতিবাদের স্মারক। দলমত-নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের এই ঢল প্রমাণ করেছে, রাজনীতির ‘আপোসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীরে স্থান করে নিয়েছিলেন। প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন, ‘দেশে এমন জানাজা এর আগে আর দেখেনি কেউ।’ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মূল জানাজার সঙ্গে মিল রেখে একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানেও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসব গায়েবানা জানাজায়ও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। শুধু দেশে নয়, চীনেও খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ রোগভোগ, কারাবাস আর নানা চড়াই উৎরাইয়ের পর তার খালেদা জিয়ার এই বিদায় প্রমাণ করে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও একজন নেতা কীভাবে গণমানুষের মনে বেঁচে থাকতে পারেন। জাতীয় সংসদ ভবনে জানাজা শেষে যখন কফিনবাহী গাড়িটি শেরেবাংলা নগরের দিকে ধীরলয়ে যাত্রা শুরু করে, তখন ঢাকার রাজপথের দৃশ্য ছিল বর্ণনাতীত। রাস্তার দুই ধারের সুউচ্চ অট্টালিকার বারান্দা থেকে শুরু করে ফুটপাথ, গাছের ডাল কিংবা ল্যাম্পপোস্ট-কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। হাজার হাজার মানুষ মুঠো মুঠো ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাঁদের প্রিয় ‘দেশনেত্রী’ ও ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’কে শেষ বিদায়ের অভিবাদন জানান। অনেকে প্রিয় নেত্রীর কফিনটি একবার ছুঁয়ে দেখার জন্য ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন, তাদের চোখে-মুখে ছিল এক আপনজনকে হারানোর তীব্র হাহাকার। দীর্ঘ কয়েক দশকের বিরহ, একাকী সংগ্রাম এবং শোকগাথা পেরিয়ে খালেদা জিয়া আবার ফিরে গেলেন তার চিরকালের জীবনসঙ্গী ও আদর্শিক গুরু শহীদ জিয়াউর রহমানের পাশে। স্বামীর কবরের পাশেই তার এই অন্তিম শয়ান যেন এক ঐতিহাসিক ও শাশ্বত পুনর্মিলন, যা বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক অমর কাব্য হয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।খালেদা জিয়া, করেছেন কারাভোগ। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাকে। ফলে ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরদিন ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে চিকিৎসা শেষে ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর শারীরিক নানা জটিলতায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

দীর্ঘ কয়েক দশকের বিরহ, একাকী সংগ্রাম এবং শোকগাথা পেরিয়ে খালেদা জিয়া আবার ফিরে গেলেন তার চিরকালের জীবনসঙ্গী ও আদর্শিক গুরু শহীদ জিয়াউর রহমানের পাশে। স্বামীর কবরের পাশেই তার এই অন্তিম শয়ান যেন এক ঐতিহাসিক ও শাশ্বত পুনর্মিলন, যা বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক অমর কাব্য হয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে।

একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।খালেদা জিয়া, করেছেন কারাভোগ। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাকে। ফলে ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরদিন ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে চিকিৎসা শেষে ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর শারীরিক নানা জটিলতায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

আরও পড়ুন: বিপ্লবী ওসমান হাদির বীরোচিত বিদায়, জানাজায় লাখো জনতা

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর