, | |

মূলপাতা ফটো গ্যালারি

বিপ্লবী ওসমান হাদির বীরোচিত বিদায়


ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে সংসদ ভবন এলাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে।


প্রকাশের সময় : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:১৫ অপরাহ্ণ

আততায়ীর বুলেটে বিদ্ধ হয়ে টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা যাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির জানাজায় অংশ নিয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।

আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা আড়াইটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

হাদির জানাজা ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ মানুষ দলে দলে সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। ফার্মগেট, আসাদ গেট হয়ে দলে দলে মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ঢুকেন। কেউ হাতে, কেউ মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে জানাজায় অংশ নেন। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা নানা স্লোগান দেন। ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।

 

বিপ্লবী ওসমান হাদির বীরোচিত বিদায়, জানাজায় লাখো জনতা

দুপুর ১টার মধ্যেই জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার দুটি বড় মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মানুষের ভিড় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর বিশাল রাজপথ ছাপিয়ে ফার্মগেটের খামারবাড়ি ও আসাদগেট পর্যন্ত চলে যায়। উত্তর দিকে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র পর্যন্তও ছিল মানুষ আর মানুষ। জানাজা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

বিপ্লবী ওসমান হাদির বীরোচিত বিদায়

জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, এটাই বাংলাদেশের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জানাজা। এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায় বহু মানুষের জনসমাগম হয়েছিল।

জানাজার নামাজে ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক। জানাজা শেষে হাদির মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

ওসমান হাদি ছিলেন বিদ্রোহী এক কণ্ঠস্বর, প্রতিবাদের প্রতীক। শত হুমকি ও শত্রুর ভয় তাকে কখনও দমাতে পারেনি। দৃপ্তকণ্ঠে ওসমান হাদি বলতেন, ‘বুলেট ছাড়া কেউ আমাকে থামাতে পারবে না।’ শেষ পর্যন্ত সেই বুলেটই তার মস্তিষ্ক ভেদ করে ঝরিয়েছে রক্ত-বাংলাদেশের বুকে। কথা ছিল জনপ্রতিনিধি হয়ে রুখবেন অন্যায়-অনাচার। কিন্তু সব থেমে গেল একটি বুলেটে। তবে রেখে গেলেন সাহস, প্রতিবাদ আর বিদ্রোহের মতো কিছু শব্দ।

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার, সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর-এই পুরো পথে তার সঙ্গে ছিল কোটি মানুষের ভালোবাসা ও প্রার্থনা। তবে বীরের পথও একসময় শেষ হয়, যখন মহান আল্লাহর ডাক আসে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথ, ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন ওসমান হাদি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অভ্যুত্থানের ইতিহাস ধরে রাখতে তিনি গড়ে তোলেন ইনকিলাব মঞ্চ। রাজনৈতিক এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে হাদি দেশের মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তার কর্মকাণ্ড দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ওসমান হাদি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা শহরের খাসমহল এলাকার মৃত মাওলানা সৈয়দ আব্দুল হাদির ছোট ছেলে। ঝালকাঠির এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে তিনি আলিম পাশ করেছিলেন। এরপর তিনি ঢাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

আরও পড়ুন: এক সাহসী কণ্ঠের প্রস্থান

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর