চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ৬৭ জন চিকিৎসককে বদলি না করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর। বুধবার (৭ জুলাই) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ৬৭ জন চিকিৎসকের এই তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে গেল ৫ জুলাই চমেক হাসপাতালের ১২৬ জন চিকিৎসককে জেলা-উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পদায়ন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৬০ জন, বিআইটিআইডি হাসপাতালে ১৬ জন, খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন ও ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ জনকে পদায়ন করা হয়। এছাড়া ফটিকছড়ি উপজেলায় ৮ জন ও ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা হাসপাতালে ৭ জনকে সংযুক্তিতে পদায়ন করা হয়। এর বাইরে ৩০ জনকে চমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে সংযুক্তিতে পদায়ন করা হয়। তাদের আগামী সাত জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিলে স্ট্যান্ড রিলিজ করার কথা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
জানা গেছে, ৫ জুলাই রাত ৯টায় চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের বদলির আদেশ প্রকাশ হওয়ার দুই ঘণ্টা পর মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে জোরালোভাবে আপত্তি জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর। রাত ১১টায় তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়াকে ফোন করে জানান, একযোগে এতো চিকিৎসককে বদলির কারণে হাসপাতালের করোনা চিকিৎসাসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে।
শুধু চমেক হাসপাতাল নয়, গত ৪ ও ৫ জুলাই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অন্তত ৪৮টি আদেশে ১ হাজার ২৩৯ জন চিকিৎসককে গণবদলি করা হয়। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই গণবদলির আদেশ ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করে। ৮ জুলাইয়ের মধ্যে যেসব চিকিৎসকের বদলি আদেশ বাস্তবায়নে সমস্যা হবে তাদের তালিকা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধিশাখার ই-মেইলে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, চমেক হাসপাতালের পরিচালক যে ৬৭ জন চিকিৎসকের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন তাদের বদলির আদেশ বাতিল করা হতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব চমেক হাসপাতালের পরিচালককে এ নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় আমাদের যে ১২৬ জন চিকিৎসকের বদলি করেছে, সেখান থেকে আমরা ৬৭ জনের তালিকা করেছি। এরা করোনা ওয়ার্ড, জরুরী ও গাইনী বিভাগের চিকিৎসক। তাদেরকে বদলি করা হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। তাই তাদের বদলি না করতে সুপারিশ করেছি।’
