, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেন সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনসহ ৭ কর্মকর্তা


সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন-অর-রশীদ
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশের সময় :৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:৪৬ : অপরাহ্ণ

দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে বহুল সমালোচিত ও বিতর্কিত সাবেক ডিবিপ্রধান (অতিরিক্ত কমিশনার) হারুন-অর-রশীদসহ পুলিশের সাতজন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া একজন সহকারী পুলিশ সুপারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

আজ শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ ও শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের বরখাস্তের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে হারুন-অর-রশিদ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা ‘পলায়ন’ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই তারিখ থেকেই তার চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে। এত দিন তিনি সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন।

বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন-সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী, সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিন, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান। এছাড়া, সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ফারহানা তাসকিন ও মো. মনিরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বিদেশে অবস্থান করছেন তারা।

ফারহানা তাসকিন ডিএমপির প্রশাসন-ট্রাফিক উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৪২ দিনের বহিঃবাংলাদেশ ছুটি নিয়ে কানাডায় যান তিনি। পরে অসুস্থতার কথা জানিয়ে আরও ৩৬ দিনের ছুটি বৃদ্ধির আবেদন করেন। এরপর কানাডার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন বছর মেয়াদি সিপিএ কোর্সে পড়ার জন্য শিক্ষাছুটির আবেদন করেন। তবে মন্ত্রণালয় সেই আবেদন নাকচ করে তাকে দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি আর ফেরেননি।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবও দেননি তিনি। পরে সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

অন্যদিকে, ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান সরকার যুক্তরাজ্যের কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞানে পিএইচডি করার জন্য ২০১২ সালে প্রেষণে যান। পরে কয়েক দফায় তার বিনা বেতনে ছুটি বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আরও দুই বছরের ছুটির আবেদন করেন তিনি। তবে সেই আবেদন নাকচ করে তাকে দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা পাওয়ার পরও তিনি দেশে ফেরেননি।

এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়ায় এবং সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন: ডিবি হারুনের শত কোটি টাকার ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’

Rajniti Sangbad


আরও খবর