, | |

মূলপাতা জাতীয়

দীপের বক্তব্যে ‘গরমিল’, তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে রহস্য বাড়ছে


আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও তাহসিফ সাউরি। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:০৪ : অপরাহ্ণ

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যে পাওয়া গেছে অসংগতি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক কালবেলাকে দেওয়া বক্তব্যে দীপ দাবি করেছিলেন, ‘রাতে রেস্তোরাঁয় আমরা দুজন মিলে ডিনার করি। আমি বের হয়ে আমার বাসার দিকে চলে আসি, উনি (তাহসিফ) আরেক দিকে চলে যান। আমি স্পেসিফিকভাবে জানি না, আসলে উনি কোন কাজে কোন দিকে চলে গিয়েছিলেন।’

তবে, দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর পিবিআই কর্মকর্তারা ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দীপ বলেছে, আমরা সেখানে (ঘটনাস্থল) কথা বলছিলাম। এসময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেয়। আর আমি পালিয়ে আসি।’

কিন্তু পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে তাদের ধাওয়া করা হলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তিনি পালিয়ে আসেন।

কালবেলাকে দেওয়া ঘটনার শেষ মুহূর্তের বর্ণনা ও পিবিআইকে দেওয়া তথ্যে গরমিল পাওয়ায় দীপের বক্তব্য নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

একই ঘটনার দুই ধরনের বর্ণনায় প্রশ্ন উঠেছে, আসলে কী ঘটেছিল তাহসিফের মৃত্যুর আগে?

তাহসিফের পরিবারের দাবি, যেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই এলাকায় কখনো যাননি তিনি। মৃত্যুর কারণ কী, কারা এর সঙ্গে জড়িত, আর নিখোঁজ হওয়ার পরের কয়েক ঘণ্টায় তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সাউরির বলে শনাক্ত করা হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এর পর থেকেই আর তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। পরবর্তীতে দীপের দাবি ছিল-তাহসিফের মোটরসাইকেলে কারিগরি ত্রুটি থাকায় তারা দুজন একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। সেখানে মেরামতের কাজ শেষে তারা বাসায় ফিরে একসঙ্গে খাবার খান এবং খাওয়া শেষে দীপ নিজের গন্তব্যে ফিরে যান। তবে তাহসিফের এই আকস্মিক নিখোঁজ ও নদী থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শেষ সময়ে থাকা দীপের কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে জোরালো সন্দেহ দানা বেঁধেছে।

 

পরিবারের তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর।

তাহসিফের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পুরোনো অভিযোগ। তবে ভিডিওটি তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, এমন দাবির পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

আরও পড়ুন: তাহসিফের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে যা আছে

Rajniti Sangbad


আরও খবর