, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ডিসকো শওকতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের রুল


ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশের সময় :১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:০৩ : অপরাহ্ণ

নামে-বেনামে শেয়ার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরীর (ডিসকো শওকত) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ব্যাংক কোম্পানী আইন লঙ্ঘন করে নামে-বেনামে ২০ শতাংশের অধিক শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় প্রমাণিত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না,তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী, ইশরাত হাসান ও বিপ্লব কুমার দাশ।

ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও ইবিএলের ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার আইনজীবী কামরুল ইসলাম জনস্বার্থে রিটটি করেন। ব্যাংকিং খাতের আমানতকারী ও শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি এ রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪ক (১) ধারা অনুযায়ী কোনো একক ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারে না। অথচ ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) সাবেক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবার সরাসরি ৯.৯৯% এবং বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ১১.১২%-অর্থাৎ মোট ২১.১১% (প্রায় ৩৩ কোটি ৬৭ লাখ) শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও ২০.৪৮% শেয়ার কুক্ষিগত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে পাওয়া যায়, শওকত আলী চৌধুরী তার শতভাগ পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ‘এস.এন. করপোরেশন’-এর বেতনভুক্ত কর্মচারী নইমুল হক ও তার স্ত্রী সালমা শিরীন এবং নিজের শ্যালিকা অনিকা তাহজীবকে ডামি বা প্রক্সি শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মাত্র ১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের নামমাত্র প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আরুশা অ্যান্ড কোং’ (৯.৯৮% শেয়ার) এবং ‘আনিকা শেয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটিজ’ (১.১৪% শেয়ার)-এর মাধ্যমে এই শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আরুশা অ্যান্ড কোম্পানির সাবেক শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে শওকত আলীর শ্যালিকা ও মেয়ের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল এবং নথিপত্রে শ্যালিকা ও শওকত আলীর ঠিকানাও একই (২৮ সার্স রোড, চট্টগ্রাম) পাওয়া গেছে।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, মাত্র এক লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের প্রতিষ্ঠান আরুশা অ্যান্ড কোং ২০০৯ সালের পর নতুন করে শেয়ার না কিনলেও বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শেয়ারের মালিক হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য বর্তমানে প্রায় ৩৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ২৪৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ পেয়েছে।

শওকত আলী নিজে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালক পদে বহাল থেকে এসব লভ্যাংশ অনুমোদন করান এবং সেই লভ্যাংশের অর্থ জমি কেনার ভুয়া অগ্রিম বায়না দেখিয়ে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে (৯.৯০ কোটি টাকা) ও নিজ প্রতিষ্ঠান এস.এন. করপোরেশনে (২৭.২৫ কোটি টাকা) স্থানান্তর করে শত শত কোটি টাকার ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগ করেন।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত রিপোর্ট ধামাচাপা দিতে ও বাজেয়াপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে শওকত আলী ও তার চক্র মার্কেটে দ্রুত এসব বেনামি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ‘সেফ এক্সিট’-এর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুশাসন নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে পরিচালক ও তার পরিবারের সংশ্লিষ্টতা থাওলে উক্ত ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন: ডিসকো শওকত পরিবারের অ্যাকাউন্টে টাকার পাহাড়

Rajniti Sangbad


আরও খবর