, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

মোজতবা খামেনির বেঁচে ফেরার নেপথ্যে ছিল যে ভয়াবহ ঘটনা


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৩ : অপরাহ্ণ

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার ছেলে মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে তেহরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও নিরাপদে ছিলেন না মোজতবা। তার অবস্থান করা হাসপাতালেও হামলা চালানো হয়। পরে হাসপাতালটির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানিয়েছেন ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস পরিষদের সদস্য মহসেন হায়দারি। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

হায়দারি জানান, আহত অবস্থায় মোজতবা খামেনিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তেহরানের তিনটি হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে বোমা হামলা চালানো হয়। তৃতীয় হাসপাতালটিতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন মোজতবা। পরে হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

মোজতবা খামেনি কোথায়?
তবে নির্বাচিত হলেও মোজতবা খামেনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি এবং কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি তিনি বাবার জানাজাতেও অংশ নেননি।

সম্প্রতি তিনি আহত বা বিকলাঙ্গ হয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে রটে যাওয়া গুঞ্জনের পর মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে নিশ্চিত করেন যে তিনি নতুন নেতার সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা এক আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক করেছেন।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবা খামেনির ভাগ্য নিয়ে জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে মন্তব্য করেন, আমি মনে করি না তিনি মারা গেছেন। তিনি খুব গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তার শরীরের বাঁ পাশ, হাত, পা পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি মারা গেছেন বলে আমি মনে করি না।

যেভাবে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন মোজতবা
মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস পরিষদের সদস্য মহসেন হায়দারি। তার দাবি, গত ৮ মার্চ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালীন কোম শহরের বিশেষজ্ঞ পরিষদে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ৮ জন নিহত এবং নির্বাচনের নথিপত্র ধ্বংস হয়।

 

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে সদস্যরা গোপন কক্ষে কাগজের ব্যালটে ভোট দেন। সেখানে ৫৯টি ভোটের মধ্যে ৫০টি ভোট পেয়ে মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হন। আর আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি পান ৮ ভোট এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।

হায়দারি বলেন, শত্রুদের অবস্থান বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ছাড়া অন্য কাউকেই নেতা হিসেবে নির্বাচিত করব না।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিং, ট্রাম্পের নজিরবিহীন আয়োজন

Rajniti Sangbad


আরও খবর