সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে পারছেন না দুই বছরের বেশি সময় ধরে। ৩৯ বছর বয়সী তারকা অলরাউন্ডার অতীতের মতো আবারও জানিয়েছেন, দেশে ফিরতে চান তিনি। কিন্তু যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, সাকিবের দেশে ফেরার আর সুযোগ নেই।
নতুন করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সাকিব দেশে ফিরতে চাওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি একজন আইনজীবীর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে তার বিরুদ্ধে করা ‘মনগড়া’ অভিযোগগুলো প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে তার সেই আবেদনের কোনো জবাব তিনি পাননি।
এ ছাড়া দেশে ফেরার বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও আলোচনা করতে চান বলে জানান সাকিব।
সাকিবের নামে হত্যা মামলা, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) খেলতে অবস্থান করছেন শ্রীলঙ্কায়। শ্রীলঙ্কা থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সাকিব বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে এই নিশ্চয়তা দেয় যে, আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তাহলে আনন্দের সঙ্গে দেশে ফিরব। আদালতের মুখোমুখি হব এবং যা যা প্রয়োজন, সবই করবো। আমি জানি, কিছুই করিনি আমি।’
দুই বছর ধরে সাকিব তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি জানিয়ে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তারা বাংলাদেশেই রয়েছেন, তবে তাদের দেশ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমাদের সবার জন্যই সময়টা কঠিন ছিল, তবে আমরা কোনোভাবে টিকে আছি।’
তবে সাকিবের এই বক্তব্যের পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, সাকিবকে নিয়ে সরকারের আগের নমনীয় অবস্থানের আর কোনো সুযোগ নেই।’
আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাকিবকে দেশে ফিরতে হবে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘যে স্বৈরাচারের মঞ্চে উঠেছে, তার তো আর আসার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেটা আমরা চিন্তা করছিলাম, আমরা নমনীয় ছিলাম, এখন আর কোনো সুযোগ নেই। সে যদি আসে, তাহলে আইনগতভাবে আসবে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশে ফেরেননি সাকিব। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তাকে নিয়ে আবারও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
আরও পড়ুন: হাসিনার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ায় সাকিবের বাড়িতে আগুন, ভাঙচুর
