সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়। এর ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চলমান মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। তাকে সেনা হেফাজতে রাখতে বলা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় মোজাফফরের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে দুই মাস সময় দিয়েছে। সেই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হবে। এ ছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনার পর হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়।
এরপর প্রসিকিউশন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে মোজাফফর হোসেনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশন জানায়, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে আজ হাজির করার জন্য নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
গত মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল। সে ভারতে আসা-যাওয়া করতো। সে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেও জড়িত। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন: এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করলো জামায়াত
