, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড: হাসিনাসহ আসামি ৪১


ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৯ জুলাই, ২০২৬ ২:২৫ : অপরাহ্ণ

২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ আসামি ৪১ জনকে করা হয়েছে।

আজ রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই এই তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নথিপত্রগুলো বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।’

তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ছাড়াও তৎকালীন পুলিশ প্রধান, র‍্যাব মহাপরিচালক এবং ডিএমপি কমিশনারকে আসামি করা হয়েছে।

পাশাপাশি আসামির তালিকায় রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবী।

মামলার আসামিদের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘খসড়া তালিকায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। সেখানে পুলিশ প্রধান, বিজিবি প্রধানসহ এরকম কয়েকজন আমরা মোটা দাগে বলতেই পারি যে তাদের বিরুদ্ধে একটা খসড়া রিপোর্ট এসেছে, সেটা আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব।’

তবে এখনই সব আসামির নাম প্রকাশে অনীহা জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিদের তালিকা যেহেতু একটি খসড়া, চূড়ান্ত প্রতিবেদন যেহেতু আমরা রিসিভ করিনি, তালিকাটা আমরা প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। অনেক আসামি আছে, তারা হয়তো এখনো গ্রেফতার হয়নি। নাম প্রকাশ করলে সেই আসামিদের গ্রেফতার করতে অসুবিধা হবে।’

‘সাধারণ আদালতের বদলে ট্রাইব্যুনালে এই বিচার কেন হচ্ছে’-এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এটা অবশ্যই একটা সিস্টেমেটিক অফেন্স। এটা ওয়াইড স্প্রেড এবং টার্গেটেড কিলিং। সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি আছে, লোকাল পারপেট্রেটরদের ইনভলবমেন্ট আছে। পরিকল্পিতভাবে হেফাজতে ইসলাম যখন প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল, তখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এই জনগোষ্ঠীকে একেবারে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্যে তারা নানান পরিকল্পনা গ্রহণ করে।’

 

নিহতের সংখ্যা প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রায় ৬১ জনের একটা তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা ৫৮ জনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করতে পেরেছি।’

উল্লেখ্য, ব্লগারদের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননা এবং নারীনীতির বিরোধিতাসহ ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয় হেফাজতে ইসলাম। সেদিন হাজার হাজার কওমি আলেম-ছাত্র ও সাধারণ মুসল্লি মহাসমাবেশে অংশ নেন। এ সমাবেশে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো অভিযানকে কেন্দ্র করে যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তা শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন: ২০ জুলাই থেকে ৩ দিন ভারী বৃষ্টির আভাস, ৬ জেলায় বন্যার শঙ্কা

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর