চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড় ঘেরা জঙ্গল সলিমপুরে নবনির্মিত র্যাব ও পুলিশের যৌথ ক্যাম্পে মধ্যরাতে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনী। আধুনিক ও ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রায় তিনশ সশস্ত্র সন্ত্রাসী বুলডোজার নিয়ে এসে নবনির্মিত র্যাব-পুলিশের ক্যাম্পের দেয়াল ও স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশের প্রধান সড়কের কয়েক জায়গার মাটি কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
গতকাল রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার পর জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় স্থাপিত ক্যাম্পে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের দেয়াল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে র্যাব-পুলিশ পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। খবর পেয়ে ছুটে আসে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গুলি বিনিময়ের পর আজ সোমবার ভোরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিশেষ ক্যাম্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা ছিল। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ক্যাম্পের সবার ঘুম ভাঙে। একে-৪৭, এসএমজিসহ ভারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রায় ৩০০ জন দুর্বৃত্ত চারপাশ থেকে ক্যাম্পটি ঘিরে ফেলে অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। একই সঙ্গে তারা বুলডোজার নিয়ে এসে নবনির্মিত ক্যাম্পের দেয়াল ও স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। পরিকল্পিত এই হামলার অংশ হিসেবে দুর্বৃত্তরা জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশের প্রধান সড়কের কয়েক জায়গার মাটি কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এসময় আশেপাশের বেশ কিছু সাধারণ মানুষের বসতঘর ও স্থাপনাতেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে র্যাব-পুলিশের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে প্রচণ্ড গোলাগুলির পর পিছু হটে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ভোর ৪টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গুলি বিনিময় চলে। একপর্যায়ে প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক (সিও) লেফট্যানেন্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, একে-৪৭, চাইনিজ রাইফেল ও এসএমজির মতো ভারী অস্ত্র নিয়ে প্রায় ৩০০ জন দুর্বৃত্ত এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। এমনকি সড়ক কেটে ও বুলডোজার ব্যবহার করে ক্যাম্পটি ধ্বংস করার চেষ্টা চালায় তারা।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং জঙ্গল সলিমপুরজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেন। অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যেই সন্দেহভাজন ২০-২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম জানান, সরকারি ক্যাম্পে হামলার মতো ধৃষ্টতা দেখানো এই দুর্বৃত্তদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে এক অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এ ঘটনার পর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের অংশগ্রহণে একটি বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর প্রশাসন পুরো এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সেখানে অপরাধীদের পুনর্বাসন ঠেকাতে ছিন্নমূল ও আলীনগর এলাকায় র্যাব-পুলিশের দুটি স্থায়ী যৌথ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
আরও পড়ুন: জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে অধরা মূল হোতারা
