গণভোটের রায় বাস্তবায়নে চারদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।
এর আগে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা সেখান বৈঠক করেন। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বৈঠকের সিদ্ধান্ত, পরবর্তী কর্মসূচি এবং দাবিগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পাঁচ কোটি মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’(ভিন্নমত) খারিজ করে দিয়েছে। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেই জনরায় উপেক্ষা করা হলে দেশ আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ধাবিত হবে।
‘সংকট বিএনপি তৈরি করেছে, সমাধানও তাদের করতে হবে’ জানিয়ে এই জামায়াত নেতা বলেন, সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের মৌলিক বিষয়ে বিএনপি যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল, গণভোটে দেশের পাঁচ কোটি মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দল হিসেবে বিএনপির উচিত ছিল জনরায় মেনে নেওয়া। কিন্তু তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নিয়ে এবং বৈঠক এড়িয়ে গিয়ে দেশে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এই সংকট নিরসনের চাবিকাঠি এখন বিএনপির হাতেই।
সরকারের সাম্প্রতিক ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, সরকারের বয়স মাত্র এক মাস পার হলো। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলীয় নেতারা রাজপথের আন্দোলন দমনের হুমকি দিচ্ছেন। এটি আওয়ামী লীগের ভাষা, ফ্যাসিবাদের ভাষা। আপনারা যদি জনগণের অভিপ্রায় উপেক্ষা করেন, তবে আমাদের সামনে রাজপথ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
চারদিনের কর্মসূচি ঘোষণা
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য লিফলেট বিতরণ করবে। আগামী ৯ এপ্রিল বিকেল ৫টায় রাজধানীর শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
এছাড়া ৯ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। একইসঙ্গে ১১ এপ্রিল দেশের সকল মহানগরে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।
১২ এপ্রিল দেশের সকল জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ১৩ এপ্রিল ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযুদ্ধ হলে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি জনাব রাশেদ প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক
