, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

আদালতে যা বললেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ


ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে আজ ঢাকার সিএমএম আদালতে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২৬ মার্চ, ২০২৬ ৬:০২ : অপরাহ্ণ

সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ আদালতে বলেছেন, ‘এক-এগারোর সময় আমি কুমিল্লায় কর্মরত ছিলাম। সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনের ব্যাপারে আমি সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালতে তিনি এ কথা বলেন। ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুরে নিহত দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের হামলায় দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ ছাড়া শেখ মামুনের নির্দেশে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

খালেদ মামুনের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তারা বলেন, মামলার এজাহারে মামুন খালেদের নাম নেই এবং ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ২০১৬ সালে তিনি অবসরে গিয়েছেন এবং একজন পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে তিনি শুধু দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে বলেন, আসামি মামুন খালেদ এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব ছিলেন। পরবর্তীকালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে সহযোগিতা করায় পুরস্কারস্বরূপ তাঁকে ডিজিএফআই প্রধান করা হয়। তাঁর আমলেই আয়না ঘর তৈরি করে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও পুড়িয়ে মারার মতো অপরাধ করা হয়েছে।

পিপি আরও অভিযোগ করেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসা থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়ার নেপথ্যে ছিলেন এই মামুন খালেদ। তাঁর নির্দেশেই গত ১৯ জুলাই মিরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়, যাতে দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ছাড়া জলসিঁড়ি প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথাও তোলেন পিপি। যে কারণে ইতিমধ্যে আদালত তাঁর স্ত্রীসহ বিদেশযাত্রা নিষেধাজ্ঞা দেন বলে জানান ওমর ফারুক ফারুকী।

 

একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে মামুন খালেদ বলেন, ‘এক-এগারোর সময় আমি কুমিল্লায় কর্মরত ছিলাম। সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনের ব্যাপারে আমি সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি।’

আয়না ঘর প্রসঙ্গে ডিজিএফআইয়ের সাবেক এই মহাপরিচালক দাবি করেন, তার মেয়াদে কোনো অভিযোগ ছিল না এবং তিনি এ বিষয়ে একাধিকবার শুনানিতে অংশ নিয়েছেন।

জলসিঁড়ি প্রকল্প নিয়ে মামুন খালেদ বলেন, ‘নজরুল সাহেব নামে একজনের ১৫০০ কোটি টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল, আমি শুধু সেই উদ্ধার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলাম।’

যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সে মামলা সম্পর্কে খালেদ মামুন বলেন, মামলার ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। অবসর নেওয়ার পর আমি দীর্ঘ সময় ধরে সিভিলিয়ান হিসেবে জীবনযাপন করছি। আমি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হইনি।’

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ডিবি পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আরও পড়ুন: ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ আটক

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর