আজ ২৬ মার্চ। ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের বিরুদ্ধে শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র প্রতিরোধ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে অর্জিত হয় স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা।
এ বছর পালিত হচ্ছে স্বাধীনতার ৫৬তম বার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ ভোরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রথম বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে তারেক রহমান প্রথমবার স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবার প্রথম বারের মতো জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালন করছে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে।জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আসছেন বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে যাচ্ছে শহীদ বেদী। একই সঙ্গে দলে দলে ফুল হাতে নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে প্রবেশ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আজ সরকারি ছুটি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারা।
রক্তঝরা ইতিহাসের সূচনা
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালির জীবনে নেমে আসে এক ভয়ংকর, নৃশংস ও বিভীষিকাময় অন্ধকার রাত। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বর্বর সামরিক অভিযান চালিয়ে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের নির্মমভাবে হত্যায় মেতে ওঠে। গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তখন (২৬ মার্চ) চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। যা তৎকালীন ইপিআরের ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পরে।
পাকিস্তানি বাহিনীর কাপুরুষোচিত আক্রমণ ও গণহত্যার পর দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাঙালিদের অভিন্ন অভিপ্রায় হয়ে ওঠে স্বাধীনতা অর্জন। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণার পর গর্জে উঠে বাঙালি জাতি। সশস্ত্র লড়াই ও প্রতিরোধে আগুয়ান হয় এ দেশের মুক্তিকামী জনতা। শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ।
৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় আসে। বিশ্বের বুকে জন্ম নেয় এক নতুন মানচিত্র—স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে শোষিত ও বঞ্চিত বাঙালিরা পায় পরম আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার স্বাদ।
আরও পড়ুন: ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ আটক
