রাজধানীর বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের এক মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এতে আটকে গেছে তার কারামুক্তি। এর আগে বিতর্কিত সাবেক এই বিচারপতি আটটি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন।
আজ বুধবার পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে খায়রুল হককে নতুন এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান।
খায়রুল হককে আজ আদালতে হাজির করা হয়নি। ভার্চুয়ালি উপস্থিত দেখিয়ে শুনানি হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে।
এদিকে এ মামলায় খায়রুল হকের জামিনের জন্য আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। দুপুরে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এক মামলায় জামিন পেলে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। আজ নবম মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল। কবে মুক্তি মিলবে জানি না। আমরা অপেক্ষায় আছি সেঞ্চুরি পূরণের।’
বিচারাঙ্গনে তুমুলভাবে আলোচিত-সমালোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বেশ কয়েকটি রায় চরম বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। তাকে আইনজীবীদের অনেকে দেশের ‘বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের মূল কারিগর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
অবসরে যাওয়ার কয়েক দিন আগে দেওয়া এক রায়ে খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেন, যা দেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি আওয়ামী আমলে নানাভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে। অবসরের পর তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের জালিয়াতি, সরকারি সম্পদ অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে আটক করেছে ঢাকা মেট্টোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের পর তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত বছরের ১৩ আগস্ট সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
