বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে এই মিছিল বের করা হয়।
মিছিলের পূর্বে আয়োজিত সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও ফলাফল তৈরি ও ঘোষণায় মহাইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। সাবেক উপদেষ্টার কথায় তা প্রমাণ হয়েছে।
জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অতীতের নির্বাচনের চেয়ে এবারের ধরনটাই ছিল আলাদা। ভোটারদের বোকা বানিয়ে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা ঠিকই ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তা না হলে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ১১ দলের বিজয়ী হওয়ার খবরে ভোট গণনা বন্ধ রাখা হতো না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মানুষ যখন জামায়াতের বিজয়ের খবর শোনার জন্য উন্মুখ ছিল তখনই মধ্যরাতে রহস্যজনকভাবে ফলাফল পরিবর্তন করে দেওয়া হলো। এটা বড় ইঞ্জিনিয়ারিং। তিনি অবিলম্বে দুই সাবেক উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান।
সমাবেশের পর বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন ও কাকরাইল হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন, মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন, উত্তরের সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে গত ২ মার্চ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই জাতীয় শক্তি যেন মেইনস্ট্রিম না হতে পারে, আমরা সেই কাজটা করতে পেরেছি, তাদের (জামায়াত) আমরা মেইনস্ট্রিম হতে দিইনি।’
সাংবাদিক মো. আদনান খানের (নয়ন আদিত্য) উপস্থাপনায় চ্যানেল ওয়ানের ‘মুখোমুখি’ নামক একটি অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: রিজওয়ানা-খলিলুরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার দাবি জামায়াতের
