, | |

মূলপাতা বিএনপি

হাসপাতালে সারারাত মায়ের পাশেই বসেছিলেন তারেক রহমান


খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:৩১ : অপরাহ্ণ

নয়াপল্টন কার্যালয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সারাদিন দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কুশলবিনিময় শেষে সন্ধ্যার পর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাত ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে মায়ের পাশে বসেছিলেন তিনি। ২টার দিকে তিনি বাসায় চলে যান। তিনি বাসায় যাওয়ার কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল থেকে ফোন করে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। তারেক রহমান দ্রুত হাসপাতালে চলে আসেন। এরপর তিনি সারারাত খালেদা জিয়ার পাশেই বসেছিলেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালের খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের সদস্য আইসিইউ কনসালট্যান্ট ডা. জাফর ইকবাল একটি সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

ডা. জাফর ইকবাল বলেন, সোমবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের ডায়ালায়সিস বন্ধ হলেই শারীরিক অবস্থার বেশ অবনতি হয়। স্বাস্থ্যের অনেক জটিলতা থাকায় বয়সের কারণে একসঙ্গে সব চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছিলো না। এ সময় ম্যাডামের ব্লাড প্রেশার ওঠানামা করতে থাকে। উনি (তারেক রহমান) সব বুঝতে পারছিলেন, মনিটরের দিকে তাকাচ্ছিলেন-কখন ব্লাড পেসার ফেল করছে, কখন হার্টবিট ফেল করছে। উনি সব মনিটরে দেখছিলেন। মনিটর দেখেই বোঝা যাচ্ছিল রোগীর অবস্থা। ডাক্তারদের মুভমেন্ট দেখেই উনি (তারেক রহমান) মেসেজ পেয়ে যাচ্ছিলেন। মুখে বলতে হয়নি যে আপনার আম্মার শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

এই আইসিইউ কনসালট্যান্ট বলেন, তারেক রহমান বারবার বলছিলেন, আপনারা (ডাক্তারদের) ৫ বছর ধরে আমার মাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। আপনাদের ওপর আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল সাপোর্ট আছে। আপনারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, করবেন জানি।

ডা. জাফর ইকবাল বলেন, তারেক রহমান পুরোটা সময় বসেছিলেন। খুবই শান্তভাবে বসেছিলেন। আমাদের চিকিৎসায় কোনো ইন্টারফেয়ার করেননি। উনি বলে দিয়েছিলেন, কোনো কারণে আমাকে যদি বাইরে যেতে হয়, যাবো। নিজে থেকেই দুই-একবার বাইরে গেছেন, পরীক্ষা করার সময়। ডাক্তাররা যখন পরীক্ষা করতেন তখন তিনি নিজ থেকে বাইরে গেছেন এবং পরীক্ষা শেষে আবার ভেতরে প্রবেশ করতেন। উনাকে বলতে হয়নি, আপনি বাইরে যান। উনি যথেষ্ঠ সেনসিবল মানুষ।

 

এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ১৭ বছর পর মাতৃভূমিতে ফেরার মাত্র ছয়দিনের মাথায় মাকে হারালেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান শুরু থেকেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ভার সম্পূর্ণরূপে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে জানান বিএনপির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যালের বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেছেন, খালেদা জিয়া বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত এক মাসের বেশি সময় তিনি এখানে ভর্তি ছিলেন। সুস্থতার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। কিডনি ভালো ছিল, কিন্তু ফুসফুসে ইনফেকশন হয়েছিল, যা তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

মেডিকেলের বোর্ডের সদস্য আরেক সদস্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ফুসফুসে ইনফেকশন হওয়ার পর খালেদা জিয়ার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। এ জন্য ওষুধ কাজ করছিল না।

শেষ সময়ে হাসপাতালে খালেদা জিয়ার পাশে বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শর্মিলা রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ স্বজনরা।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে, ডা. জুবাইদা রহমানসহ দেশি-বিদেশি ৩০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়ক: রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ৪১ বছর

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর