, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

ইরানে মার্কিন হামলার অনুমতি দিলেন ট্রাম্প, তবে…


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রকাশের সময় :১৯ জুন, ২০২৫ ১০:১৮ : পূর্বাহ্ণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে সামরিক কর্মকর্তাদের জানান, তিনি ইরানে হামলার পরিকল্পনার অনুমতি দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া থেকে তিনি বিরত রয়েছেন। তেহরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে কি না-সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সেই গোপন সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, ইরানে হামলার বিষয়টি তার বিবেচনায় রয়েছে।

গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি কী করবো, সেটা নিয়ে ভাবছি। তবে আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিই শেষ মুহূর্তে, যখন সময় শেষ হওয়ার এক সেকেন্ড বাকি থাকে।’

ট্রাম্প যখন সিদ্ধান্তের পাল্লা মেপে দেখছেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি বাড়াতে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে বাহিনী পাঠাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের ট্যাংকার বিমান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সক্ষম যুদ্ধজাহাজ, একটি বিমানবাহী রণতরী দল এবং উন্নত এফ-২২ যুদ্ধবিমান, যা বুধবার ব্রিটেনে অবতরণ করেছে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কর্মকর্তারা ইরানের ওপর হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থানে পরিকাঠামো গড়ে তুলছে ওয়াশিংটন।

হামলার পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে ইরানের সুদৃঢ়ভাবে সুরক্ষিত ফোর্দো পারমাণবিক সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্র। এটি পাহাড়ের নিচে অবস্থিত এবং সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ অস্ত্রে এই স্থাপনা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। শুধুমাত্র সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা দিয়েই এটিকে আঘাত করা সম্ভব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে (পশ্চিমা বিশ্বে শনিবার সপ্তাহ শেষ হয়) হামলার পরিকল্পনাও থাকতে পারে। একজন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ফেডারেল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও হামলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি নিয়ে ভাবনার কথা জানিয়ে আসছেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধরত ইরানকে লক্ষ্য করেই এই ভাবনা।

গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কী করব, সে বিষয়ে কিছু ধারণা আছে।’ তবে তিনি জানান, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার শেষ মুহূর্তে সেটা জানাতেই’ বেশি পছন্দ করেন তিনি, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অস্থির।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি হামলা করতেও পারি, না-ও করতে পারি।’

তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো সব ধরনের বিকল্প টেবিলে রয়েছে। যুদ্ধের ব্যাপারে ট্রাম্পের এই মনোভাব এক সপ্তাহ আগের অবস্থান থেকে একেবারেই বিপরীত। তখন তিনি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, হামলা কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানকে সময় দিচ্ছেন, যাতে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কিছু কার্যক্রম বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এড়ানোর ইঙ্গিত দিতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও বুধবার সে ধরনের ইঙ্গিতই দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক পোস্টে বলেন, তার দেশ এখনো ‘কূটনীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ এবং কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র চায়নি, ভবিষ্যতেও চাইবে না।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামীকাল শুক্রবার জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরমাণু আলোচনা করতে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক দিনে ট্রাম্পের অবস্থানে বড় রকমের পরিবর্তন এসেছে, কারণ তার মিত্ররা তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, ইরান একটি পরমাণু অস্ত্র পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সাউথ ক্যারোলিনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। ট্রাম্পের সঙ্গে তার একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রাহাম বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) কূটনীতিকে সুযোগ দিয়েছিলেন। আমি মনে করি, ইরান ভুল হিসাব কষেছে। মানবজাতির প্রতি এই হুমকি যত দ্রুত শেষ করা যায়, ততই ভালো।’

গত মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের উল্লেখ করে গ্রাহাম বলেন, ‘তিনি খুব মনোযোগী, শান্ত এবং তার কথায় তিনি দৃঢ় যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেবেন না।’

ট্রাম্প বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং তার নির্বাচনী প্রচারে তিনি আরও একটি বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

গ্রাহাম বলেন, মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে ‘অভিযান চালিয়ে যেতে’ উৎসাহিত করেছেন। তবে এই সময় তিনি বোঝাননি যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলায় অংশ নেবে।

আরও পড়ুন: ইরান নিয়ে আমি কী করতে যাচ্ছি কেউ জানে না: ট্রাম্প

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর