বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের অর্জন নস্যাতের ষড়যন্ত্র করছে ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসররা। ইস্পাত কঠিন ঐক্যে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে হবে। তাই ক্ষুদ্র সংকীর্ণতা ভুলে দেশ ও জাতির স্বার্থে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল সংলগ্ন মাঠে বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, সম্প্রতি জুলাই আগস্টে ফ্যাসিবাদের ভয়াবহ দমন নীতির কারণে গণহত্যায় যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক সমবেদনা। আমি চিকিৎসার কারণে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও সব সময় আপনাদের পাশেই আছি।’
দেশ সংকটময় সময় অতিক্রম করছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘সমন্বিত আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট শাসক বিদায় নিয়েছে। একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা রাষ্ট্র মেরামতের ন্যূনতম সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা।’
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর গণতন্ত্রের জন্য, আমার মুক্তির জন্য আপনারা যে নিরন্তর সংগ্রাম করেছেন এবং অসংখ্য নেতা-কর্মী প্রাণ দিয়েছেন, গুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সোয়া লাখ মামলায় জড়িয়ে ন্যায়বিচারের জন্য এখনো আদালতের বারান্দায় দৌড়াচ্ছেন, আপনাদের গণতন্ত্রের জন্য এই ত্যাগ শুধু দল নয়, এই জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে।’
সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে রাখতে চেয়েছিল তাদের ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনও থেমে নেই। ‘সংস্কার’ কিংবা ‘স্থানীয় নির্বাচন’ এসব ইস্যু নিয়ে জনগণের সামনে এক ধরণের ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন,‘গণঅভুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের সামনে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এই সুযোগ এবং সম্ভাবনা নস্যাৎ করার জন্য এরইমধ্যে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সুকৌশলে রক্ত পিচ্ছিল রাজপথে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিএনপির কাছে সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়। সরকারে কিংবা বিরোধী দলে বিএনপি যখন যে অবস্থানেই দায়িত্ব পালন করেছে জনগণের আকাঙক্ষাকে ধারণ করে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সব সময়েই রাষ্ট্র সরকার ও রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছে এবং করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’
সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশের মানুষ অনেক আশা ভরসা নিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। মানুষ মনে করে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে আমাদের দেশের অবস্থার পরিবর্তন হবে। অতিদ্রুত দেশের জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবেন৷কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, সে লক্ষ্যে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আমরা পাচ্ছি না।’
আরও পড়ুন: ভোরে থানা পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, এসআই-কনস্টেবল বরখাস্ত
