গত ২০ অক্টোবর দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চট্টগ্রাম সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকায় জেএম সেন হলে যান। সেখানে যাওয়ার পথে দুটি দৃশ্য দেখে ‘বিরক্ত’ হন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একটি সূত্র রাজনীতি সংবাদকে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে রহমতগঞ্জ এলাকায় জেএম সেন হলের উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে গোল চত্বরে পৌঁছলে সেখানে মেটাল ফ্রেমের ডিসপ্লে বোর্ডে মেয়র (বর্তমানে প্রশাসক) ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবি দেখে বিস্মিত হন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার গাড়িতে থাকা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে বলেন, এখানে মেয়রের ছবি কেন? আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েও দেশের কোনো স্থাপনায় আমার ছবি নেই।
সূত্রটি জানায়, বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে গোল চত্বরে ডিসপ্লে বোর্ডে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবি দেখে প্রচন্ড বিরক্তিবোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা গেছে, দেশী-বিদেশী যাত্রী ও পর্যটকদের বন্দর নগরীতে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে গোল চত্বরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এই ডিসপ্লে বোর্ডটি স্থাপন করা হয়। এতে লেখা রয়েছে-‘WELCOME TO CHATTOGRAM, Dr. Shahadat Hossain
Mayor, Chattogram City Corporation’। ডা. শাহাদাত মেয়র থেকে এখন প্রশাসক হলেও এই ডিসপ্লে বোর্ডে তার পদবি পরিবর্তন করা হয়নি।
ওই দিন প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম আগমন উপলক্ষে লালখান বাজার থেকে শুরু করে কাজীর দেউড়ি, জামালখান, চেরাগাী পাহাড় মোড় হয়ে আন্দরকিল্লা এলাকা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। সড়ক বিভাজকে লাগানো হয় নতুন রং। রঙিন আলোর ফোয়ারা দিয়ে সড়ক বিভাজক আলোকসজ্জা করা হয়। রঙবেরঙের আলোর ঝলকানিতে রঙিন হয়ে উঠে এসব এলাকা। কিন্তু মনকাড়া এমন আলোকসজ্জায় মুগ্ধ হননি প্রধানমন্ত্রী! বরং বিরক্ত হন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সূত্রটি জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন জামালখান হয়ে চেরাগীপাহাড় মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন সড়ক বিভাজকে রঙবেরঙের আলোর ঝলকানি দেখে বিস্মিত হন! এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার গাড়িতে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, এসব আলোকসজ্জা কে করেছে? তখন এক কর্মকর্তা জানান, সিটি মেয়র। তখন প্রধানমন্ত্রী বলে উঠেন, আজকে কি আমার জন্মদিন?
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেএম সেন হলের আশেপাশে বিএনপি নেতাদের অসংখ্য ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়েছিলো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের একদিন আগে এসএসএফের নির্দেশে সব ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা রাজনীতি সংবাদকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আত্মপ্রচার ও ব্যক্তিগত বন্দনা মোটেও পছন্দ করেন না। এ কারণে তিনি চট্টগ্রামে তার আগমনকে ঘিরে সড়কে আলোকসজ্জা করা পছন্দ করেননি। বিমানবন্দরের মতো স্থাপনায় ডিসপ্লে বোর্ড লাগিয়ে ডা. শাহাদাতের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টাও প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবে নেননি। শাহজালাল বিমানবন্দরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন কি ডিসপ্লে বোর্ড লাগিয়ে তার ছবি প্রদর্শন করেছেন?
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর শেষের পাঁচ দিনের মাথায় ডা. শাহাদাত হোসেনকে গত ২৫ অক্টোবর মেয়রের পদ থেকে সরিয়ে প্রশাসক পদে বসানো হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা রাজনীতি সংবাদকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ডা. শাহাদাতের কপাল পুড়েছে। আইন অনুযায়ী, তার মেয়াদ শেষ হয়েছে ৮ মাস আগে। তাহলে তিনি এতোদিন কীভাবে মেয়র পদে ছিলেন? এতোদিন যেহেতু ছিলেন, সরকার চাইলে তো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত তাকে মেয়র পদে রাখতে পারতেন। কিন্তু সরকার তা করেনি।
আইন অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ ধরা হয় প্রথম সাধারণ সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখায় এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়।
গত ২৫ অক্টোবর কোন প্রক্রিয়ায় ডা. শাহাদাতকে মেয়র থেকে প্রশাসক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কিংবা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোন আইনের ভিত্তিতে তিনি মেয়র পদে ছিলেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে।
আরও পড়ুন: ডা. শাহাদাতের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়লেন বিএনপি নেতা স্বপন







