চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন বগাকে পুলিশ ধরতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। চাঁদাবাজির একটি মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বগা।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর হত্যা-হুমকি, চাঁদাবাজি, বসতঘরে ঢুকে ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগে খুলশী থানায় একটি মামলা হয়। নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা শেখ মুহাম্মদ আরিফ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ওয়াকিল হোসেন বগাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এতে বগাসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের পিসিপিআর (পুলিশের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য) অনুযায়ী, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় বগার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা রয়েছে। একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বগার। দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
চলতি বছরের জুনে সরকারি জায়গা দখল নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় আলোচনায় আসেন বগা। ওই ঘটনায় গত ৮ জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এলেও একাধিক অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
গত ৬ অক্টোবর রাতে বগাকে গ্রেপ্তার করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে অভিযান চালায় খুলশী থানা পুলিশ। অভিযান চলাকালে মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে মেয়রের হস্তক্ষেপে অভিযান শেষ না করেই নগর ভবন থেকে ফিরে যায় পুলিশ। এ সময় বগা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরদিন বগাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন মেয়র। খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আবদুর রহিমেরও সমালোচনা করেন তিনি। বগাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন মেয়র।
গত ৭ অক্টোবর আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) থেকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করে পুলিশ সদর দপ্তর।
ওয়াকিল হোসেন বগা চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।পরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়াও পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় বগাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এই মামলাতেই রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন ওয়াকিল। আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে খুলশী এলাকায় অভিযান চালানোর সময় বগার অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করে পুলিশের ওপর হামলা করেন বলে পুলিশের দাবি। ওই ঘটনায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলাতেও বগাকে প্রধান আসামি করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বগার বাবা মো. জাবেদ খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আবদুর রহিমসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলাটি করা হয়।







