তৈরি পোশাকখাতে দেশের অন্যতম শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের সাতটি কারখানার মধ্যে একটি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ৩৪ বছরের পুরোনো একটি ৫ তলা ভবন ভেঙে ফেলতে প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড (ইউনিট-১) নামের কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই কারখানায় সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।
আজ রোববার প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের সাতটি কারখানা। এগুলো হলো-প্যাসিফিক জিন্স (২টি ইউনিট), জিনস ২০০০, প্যাসিফিক এক্সেসরিজ, প্যাসিফিক ওয়ার্কওয়্যার ও প্যাসিফিক অ্যাটায়ার্স, ইউনিভার্সেল জিন্স (৪টি ইউনিট) এবং এনএইচটি ফ্যাশন। এর মধ্যে কেবল পুরোনো ভবনের প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড (ইউনিট-১) কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়টি কারখানা চালু রয়েছে। প্যাসিফিকের সাতটি কারখানায় ৩৫ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন।
প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের একটি কারখানা বন্ধ হওয়া নিয়ে গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘প্যাসিফিক জিন্সের সাতটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ৩৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে গেছেন।’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজেও পোস্ট দিয়ে প্যাসিফিক জিন্সের সব কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুজব ছড়ানো হয়।
অথচ প্যাসিফিক জিন্সের বন্ধ হওয়া কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো অসন্তোষ নেই। তারা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া কারখানায় কর্মরত সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিককে ‘বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন-২০১৯’ অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি আরএসসি (আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল) চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ৩৪ বছরের পুরোনো ৫ তলা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। এরপর প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ শ্রমিক জীবন ও নিরাপত্তার কথা ভেবে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রসঙ্গত, আরএসসি হলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের কারখানাসমূহে নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি সংস্থা।
প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের বাকি ছয়টি কারখানায় পদ খালি না থাকায় বন্ধ হওয়া কারখানার শ্রমিকদের সেখানে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ হয়নি। প্রস্তাবিত নতুন ভবনে কারখানা চালু হলে সেখানে ১০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। সেখানে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার শ্রমিকদের পুনরায় নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের যাত্রা শুরু করেছিলেন শিল্পপতি মো. নাসির উদ্দিন। ২০২২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবসা সামলাচ্ছেন তার তিন সন্তান সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, সৈয়দ মোহাম্মদ তানসীর ও সৈয়দ মোহাম্মদ তাহমীর। প্যাসিফিক জিন্সের কারখানায় বিশ্বখ্যাত ১৪-১৫টি ব্র্যান্ডের জিন্স তৈরি করা হয়। টানা সাতটি স্বর্ণপদক, ২৪টি জাতীয় রপ্তানি পুরস্কার ও তিনবার এইচএসবিসি বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।







