, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

ডা. শাহাদাতকে মেয়রের পদ থেকে সরিয়ে প্রশাসক পদে বসালো সরকার


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম প্রকাশের সময় :২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:১৫ : অপরাহ্ণ

আইন অনুযায়ী, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এরপরও তিনি মেয়রের পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আদালতের রায়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়া ডা. শাহাদাত তার মেয়াদ পাঁচ বছর বলে দাবি করেন। এ নিয়ে নানা সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অবশেষে ডা. শাহাদাতকে মেয়রের পদ থেকে সরিয়ে প্রশাসক পদে বসিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

আজ রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে ডা. শাহাদাতকে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত মার্চেও ডা. শাহাদাত হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব তৈরি করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। কিন্তু তখন আদেশ জারি হয়নি।

নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং মেয়র পদে তার দায়িত্ব পালন নিয়ে নানা সমালোচনা ও বিতর্কের মধ্যে এবার তাকে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন আইন, ২০২৬-এর ৪ ধারার ৩ উপধারা অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র নির্বাচিত ঘোষণা করে আর রেজাউল করিমকে নির্বাচিত ঘোষণা বাতিল করে। ৮ অক্টোবর ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ৩ নভেম্বর তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ডা. শাহাদাতকে শপথ পড়ান।

নির্বাচন কমিশনের গেজেটে রেজাউল করিমের পরিবর্তে ডা. শাহাদাতের নাম প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ, রেজাউল করিমকে মেয়র ঘোষণার যে গেজেট প্রকাশ হয়েছিল সেটার নাম পরিবর্তন করে বিদ্যমান রাখা হয়েছে। কিন্তু সে গেজেট অনুযায়ী গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ডা. শাহাদাতের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

আইন অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ ধরা হয় প্রথম সাধারণ সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

 

তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখায় এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ আখ্যা দেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শাহাদাত হোসেন দাবি করেছিলেন, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে তিনি পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়র পদে থাকার আইনগত সুযোগ রাখেন। এরপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নগরীর দেওয়ানবাজার ঘাটফরহাদবেগে মহানগর বিএনপির এক অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি যেদিন থেকে শপথ নিয়েছেন সেদিন থেকে পাঁচ বছর মেয়রের দায়িত্বে থাকার তার অধিকার রয়েছে।

ডা. শাহাদাত তার মেয়রের মেয়াদ পাঁচ বছর দাবি করার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা তখন রাজনীতি সংবাদকে বলেছিলেন, ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়র পদের মেয়াদ যদি পাঁচ বছর হয়, তাহলে মেয়র নির্বাচন কীভাবে হবে? মেয়রের মেয়াদ থাকা অবস্থায় নির্বাচন কমিশন কীভাবে তফসিল ঘোষণা করবে?

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ডা. শাহাদাতকে মেয়রের পদ থেকে সরিয়ে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়ার পর নগরবাসীদের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ডা. শাহাদাত তার মেয়রের মেয়াদ পাঁচ বছর দাবি করেছিলেন। তিনি এখন কী বলবেন? তিনি কি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন?

আরও পড়ুন: বিতর্কের কেন্দ্রে চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত

Rajniti Sangbad


আরও খবর